হাতিমৃত্যু ঠেকাতে ডুয়ার্সে বিদ্যুৎবাহী তার বদল

95

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা বিদ্যুৎবাহী তার পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। আবরণহীন তার খুলে সেই জায়গায় আবরণযুক্ত এয়ার বাঞ্চ কেবল (এবি কেবল) লাগানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হাতির নিত্য আনাগোনা রয়েছে, ডুয়ার্সের এমন একাধিক স্থানে তার পরিবর্তনের কাজ শেষ হয়েছে। বন দপ্তরের জলপাইগুড়ি ডিভিশনের ডিএফও মৃদুল কুমার বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার যৌথ সমীক্ষা হয়েছে। যেসব স্থান হাতির করিডর বলে পরিচিত সেখানে বিদ্যুতের তার থেকে এই বুনোদের কোনও ঝুঁকি রয়েছে কি না তা সবিস্তারে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় স্থানগুলি চিহ্নিত করে দেওয়ার পর তার পরিবর্তনের কাজটি শুরু হয়েছে। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার জলপাইগুড়ির রিজিওনাল ম্যানেজার বিষ্ণু দত্ত বলেন, বন দপ্তর যেমনভাবে প্রস্তাব দিয়েছে সেই মোতাবেক নানা এলাকার উন্মুক্ত তার পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে চলতি বছর ডুয়ার্সে আটটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। মূলত চা বাগান ও বনবস্তি এলাকায় ঘটনাগুলি ঘটেছে। প্রতিটি স্থানই হাতিদের চলাচলের করিডর হিসাবে চিহ্নিত। কোথাও ফসল বাঁচাতে অবৈধভাবে হুক করে লাগানো উন্মুক্ত তারের ফেন্সিংয়ে শক, আবার কোথাও পোলের পাশের কাঁঠালগাছ থেকে কাঁঠাল খেতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে শুঁড় জড়িয়ে হাতিমৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপরই বন দপ্তর ও রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা  যৌথ সমীক্ষার বিষয়ে জোর দেয়। নানা সমস্যার মধ্যে পোলের উন্মুক্ত তারের বিষয়টি অন্যতম হিসাবে উঠে আসে। বন দপ্তর ও রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সাম্প্রতিককালে ডুয়ার্স এলাকার একাধিক রেঞ্জের অন্তর্গত বিভিন্ন জায়গায় টানা নজরদারি চালিয়ে বহু বেআইনি হুকিং খুলে ফেলেছে।

- Advertisement -

এর আগে এক পোল থেকে আরেক পোলে অ্যালুমিনিয়াম কনডাক্টর স্টিল রিইনফোর্স জাতীয় উন্মুক্ত বিদ্যুৎবাহী তার লাগানো হয়েছিল। সেই জায়গায় এখন ইনসুলেটেড এবি কেবল লাগানো হচ্ছে। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সূত্রে খবর, এ পর্যন্ত হাতি উপদ্রুত নাগরাকাটার টন্ডু, আপার সুখানি বস্তি, নাগরাকাটা বস্তি, গোট বস্তি, খাস বস্তি, বামনডাঙ্গা চা বাগানের মতো জঙ্গল লাগোয়া নানা স্থান মিলিয়ে ২২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ ধরনের কেবল লাগিয়ে দেওয়ার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। বানারহাটের দেবপাড়া, লক্ষ্মীপাড়ার মতো একাধিক চা বাগান মিলিয়ে সম্প্রতি সাত কিলোমিটার উন্মুক্ত কেবল পালটানো হয়েছে। কারবালা, বানারহাটের ডিভিশন লাইনের মতো আরও একাধিক বাগানে কাজ শুরু হয়েছে। মোরাঘাট চা বাগানের চিহ্নিত স্থানেও এই কাজ শুরু হবে। আবরণযুক্ত তার পরিবর্তনের পাশাপাশি ঝুলে থাকা তারের সমস্যা দূর করতে এক পোল থেকে আরেক পোলের মাঝে নতুন পোল বসানো হচ্ছে।

বন্যপ্রাণ বাঁচানোর এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মহলের সাধুবাদ কুড়িয়েছে। হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন (ন্যাফ)-এর কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, দেরিতে হলেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হুকিং করে ফসল বাঁচাতে জমির চারপাশে বিদ্যুতের ফেন্সিং দেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে বিভিন্ন চা বাগান ও গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ যাতে সদর্থক ভমিকা পালন করে সেই আর্জি জানাচ্ছি। বন দপ্তরের অনারারি ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, এই কাজকে সাধুবাদ জানাই। তবে পরিবর্তনের পর নতুন তার মাটির তলা দিয়ে নিয়ে গেলে ভালো হত।