মাঝ আকাশে ফর্মুলা ওয়ান রেস করবে বৈদ্যুতিক গাড়ি

83

নয়ডার অদূরে বুদ্ধ ইন্টারন্যাশনাল সার্কিট। ২০১১ সালে প্রথমবার সেখানে আয়োজিত হয়েছিল ফর্মুলা ওয়ান রেস। ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি গতিবেগে সেখানে এফ১ গাড়ি ছুটিয়েছিলেন সেবাস্তিয়ান ভেটেল, জেনসন বাটন, ফের্নান্দো আলোন্সোরা। এবার চোখ বন্ধ করে সেই দৃশ্যটা কল্পনা করুন। আপনার সামনে দিয়ে সাঁইসাঁই করে ছুটে যাচ্ছে গাড়ি। তবে এবার মাটিতে নয়, রেসটা যদি হয় আকাশে? ভাবছেন, আকাশে আবার গাড়ি ছোটে নাকি? এ আবার কেমন আজগুবি কথা!

না, এখন আজগুবি লাগলেও কয়েক বছর পর সেটাই সত্যি হতে চলেছে। ১৯৮৯ সালের হলিউড ফিল্ম ব্যাক টু দ্য ফিউচার টু বা কার্টুন শো দ্য জেটসন-এর মতো আকাশে ছুটবে থুড়ি উড়বে গাড়ি, হবে ফর্মুলা ওয়ান রেস। সম্প্রতি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এয়ারস্পিডার নামে একটি কোম্পানি। মাঝ আকাশে মানবচালিত ইলেক্ট্রিক গাড়ির রেস আযোজন করতে চাইছে তারা। ইতিমধ্যে ইউনাইটেড নেশনসের স্পোর্টস ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রকল্পে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে তারা। এই রেসের জন্য ইলেক্ট্রিক ভার্টিকাল টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ভেহিকল (eVTOL) ব্যবহার করতে পারে তারা। এই অবিশ্বাস্য গাড়িটি তৈরি করতে অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি আলাউডার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে এয়ারস্পিডার। প্রথম এই রেসের জন্য ১০টি এমকে-৪ ইলেক্ট্রিক ফ্লাইং কার্স ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে এয়ারস্পিডারের।

- Advertisement -

এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই গাড়িগুলির সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে। ০ কিমি থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগে পৌঁছোতে গাড়িগুলির সময় লাগবে মাত্র ২.৩ সেকেন্ড। এখন ডিজাইনারদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গাড়িটির ওজন যথাসম্ভব কম রাখা। এর জন্য কার্বন ফাইবার দিয়ে গাড়িটির বডি বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তাঁরা। এতে গাড়িটির ওজন ৪০০ কেজির মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ডিজাইনাররা। গাড়িটিতে আটটি মোটর, দুটি ব্লেড থাকবে। ওই ব্লেডগুলির সাহায্যেই আকাশে ওড়ার ক্ষমতা পাবে গাড়িগুলি। সূত্রের খবর, ১৯৫০ সালের ফর্মুলা ওয়ান গাড়ির ডিজাইনের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই গাড়িটির ডিজাইন তৈরি করছেন বিশেষজ্ঞরা।