শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি আছে, দাহ হয় না

98

প্রসেনজিত্ সাহা, দিনহাটা : হস্তান্তরের দুবছর পরেও চালু হল না দিনহাটার বড়নাচিনা ঘাটপাড় শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লি। এই চুল্লি দিনহাটা পুরসভার অধীনে রয়েছে। রাজ্য সরকারের এক প্রকল্পে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করে এটি তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালে দিনহাটা পুরসভার হাতে এটি তুলে দেয় পূর্ত দপ্তর। কিন্তু হস্তান্তরের দুবছর হয়ে গেলেও কী কারণে এই বৈদ্যুতিক চুল্লি আজও চালু হল না, তা নিয়ে ক্ষোভ জন্মেছে বিভিন্ন মহলে।

আমাদের ধারণা শ্মশান মানেই পোড়া কাঠকয়লা, অর্ধ পোড়া কাঠের অংশ চারদিকে ছড়িয়ে থাকবে। তারপর সেখানে ঢুকলেই একটা গা ছমছমে ব্যাপার থাকবে। বড়নাচিনা ঘাটপাড় শ্মশানে ঢুকলে এই ধারণা এক নিমেষে বদলে যাবে। ডাবুর ধরলা নদীর ধারে এই শ্মশানে একসময় খোলা আকাশের নীচেই গাছের গুঁড়ি গেঁথে মরা পোড়ানো হত। এরপর ধীরে ধীরে শ্মশানের সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়। এখন শ্মশানটির চারদিক পাঁচিলে ঘেরা রয়েছে। ভেতরে রয়েছে ফুলের বাগান। এই শ্মশানের একটি অংশে তৈরি হয়েছে বৈদ্যুতিক চুল্লি। প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী কমল গুহ থেকে দাপুটে নেতা দীপক সেন, বীরেন পোদ্দারদের মতো নেতাদের শেষকৃত্যের সাক্ষী এই শ্মশান। এখানে এলেই ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যান বাসিন্দারা।

- Advertisement -

এই শ্মশানের কথা বললেই যে মানুষটির কথা সবার প্রথমে উঠে আসে তিনি হলেন সমাজসেবী বিনয়কিশোর গুহ। তাঁর জীবনের ব্রতই মড়া পোড়ানো। বিনয়বাবু বলেন, আগে শ্মশানের অবস্থা বেহাল ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পরিকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু এখনও পানীয় জল, আলো ও বসার জায়গার অভাব সহ একাধিক সমস্যা রয়েছে। সেইসঙ্গে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির কাজ শেষ হলেও সেটা চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ না নেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

শিক্ষক জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, অপার শান্তির ঠিকানা এই শ্মশান। তবে একসময় যে সৌন্দর্যায়ন দেখা যেত এখন তা দেখা যায় না। তাই সেই পরিবেশ যাতে ফিরিয়ে আনা যায় সেবিষয়ে প্রশাসনকে খেয়াল রাখতে হবে।

ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সদস্য মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শহরের একাধিক এলাকার মানুষ মৃতদেহ দাহ করার জন্য এখানে আসেন। বৈদ্যুতিক চুল্লিটি যদি দ্রুত চালু করা যায় তাহলে সকলের সুবিধা হবে। দেহ দাহ করার সময় পরিবেশ দূষণও কম হবে।

দিনহাটা মহকুমায় একাধিক কাঠের চুল্লি থাকলেও একটিও বৈদ্যুতিক চুল্লি ছিল না এতদিন। এরফলে বহুদিন থেকেই একটি বৈদ্যুতিক চুল্লির দাবি উঠেছিল। অবশেষে সেই দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে ২০১৭ সালের শেষের দিকে শহর সংলগ্ন বড়নাচিনা ঘাটপাড় শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানোর কাজ শুরু হয়। পূর্ত দপ্তর ২০১৯ সালে বৈদ্যুতিক চুল্লিটি পুরসভার হাতে তুলে দেয়। কিন্তু হাতে পাওয়ার দুবছর পরেও বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু করার কোনও উদ্যোগই দেখা যায়নি।

দিনহাটার সমাজসেবী বিনয়কিশোর গুহ বলেছেন, বর্তমান চুল্লিটির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তাই বৈদ্যুতিক চুল্লি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। এতে সকলের সুবিধা হবে। মাঝে করোনাকালে পুর প্রশাসন ও মহকুমা প্রশাসন চালুর উদ্যোগ নিলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে আদৌ সেই বৈদ্যুতিক চুল্লিটি চালু হবে কি না, তা জানেন না কেউই।

বড়নাচিনার এই শ্মশানের ওপর পার্শ্ববর্তী বাঁশতলা অঞ্চল তো বটেই, দিনহাটা পুরসভার কলেজপাড়া, মদনমোহনপাড়া, বাইপাস, বাবুপাড়া সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দারা নির্ভর করে থাকেন। পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন গৌরীশংকর মাহেশ্বরীর বক্তব্য, চুল্লি চালানোর জন্য যে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন, তাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের পাওয়া গেলে দ্রুত তা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।