কাজ শেষ, ধূপগুড়ি শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু হয়নি

ধূপগুড়ি : নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেলেও করোনার কারণে ধূপগুড়ি শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লির উদ্বোধন হচ্ছে না। এদিকে, বর্ষা শুরু হতেই বিভিন্ন এলাকায় মৃতদেহ সৎকার করা নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দাবি, তৈরি হওয়ার পর ফেলে না রেখে দ্রুত চালু করে দেওয়া হোক চুল্লিটি। এতে ধূপগুড়ি শহর ছাড়াও আশপাশের বহু এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।

বর্ষার সময় জলমগ্নতা এবং বৃষ্টির কারণে প্রায়শই শবদাহে সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। একসঙ্গে একাধিক শবদেহ এলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এই কারণে ধূপগুড়িতে বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। ২০১৭ সালের পুর নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূলের তরফে নির্বাচনি প্রচারে তুলে ধরা হয়েছিল চুল্লি স্থাপনের কথা। সে বছর ভোটের আগেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর শহরে চুল্লি স্থাপনের জন্যে জায়গা খোঁজার কাজ শুরু করে। ভোটে তৃণমূল পুরবোর্ডে ক্ষমতায় আসার পর সে বছর ডিসেম্বর মাসের ৩ তারিখ কুমলাই নদীর পাড়ে ধূপগুড়ি মহাশ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লির শিলান্যাস করেন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। শিলান্যাসের মাসতিনেক পর ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ পাঁচ কোটি টাকায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে ভবন নির্মাণ, তারপর দুটি চুল্লি বসানোর কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর শ্মশান চত্বরে সৌন্দর্যায়ন এবং অন্য কাজও শেষ হয়েছে কয়েকমাস আগেই। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কিছু সমস্যার জেরে চেষ্টা করেও গত বছর শেষদিকে তার উদ্বোধন করতে পারেনি পুরসভা। শেষ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক কাজ এবং সংযোগের কাজও শেষ হয়েছে।

- Advertisement -

এর মধ্যে লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় উদ্বোধন আটকে গিয়েছে। তবে বর্ষা শুরু হতেই চুল্লি উদ্বোধনের দাবিও জোরালো হয়েছে শহরে। বিরোধীরাও দ্রুত চুল্লি চালু করার দাবিতে সরব হয়েছেন। পুরসভার বিরোধী দলনেতা কৃষ্ণদেব রায় বলেন, শিলান্যাসের সময় আমরা শুনেছিলাম একবছরেই নির্মাণকাজ শেষ হবে। এখন দেখছি তিনবছরেও চালু হয়নি। এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্প যদি মানুষের কাজে না লাগে তবে আর বানিয়ে লাভ কী? আমাদের সন্দেহ, সম্ভবত একগাদা টাকা খরচ করে, জমায়েত করে ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধনের আশায় আছে শাসকদল। মানুষের প্রয়োজনের কথা তাদের মাথায় নেই। সূত্রের খবর, মূলত তিনটি কারণে কাজ শেষের পরেও চুল্লি উদ্বোধন নিয়ে দ্বিধায় পুরকর্তারা। প্রথমত, এই করোনা আবহে চুল্লি উদ্বোধন হওয়ার পর যদি কোনও কারণে গুজব ছড়ায় এখানে করোনায় মৃত কাউকে দাহ করা হবে তাহলে সমস্যা বাড়বে। দ্বিতীয়ত, দুটি চুল্লি সহ ভবনটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে মৃতদেহ সৎকারের ন্যূনতম ফি কত হবে তা নিয়ে মতান্তর রয়েছে পুরকর্তাদের মধ্যেই। এছাড়া প্রশিক্ষিত অন্তত দুজন কর্মী এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি পুর কর্তৃপক্ষ।

তবে সূত্রের খবর, ধূপগুড়ি মহাশ্মশানে প্রতিমাসে গড়ে যে সংখ্যায় মৃতদেহ সৎকার করা হয় তার নিরিখে দুটি চুল্লি সহ শ্মশানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের সাম্মানিকবাবদ খরচ হিসাব করে ফি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। জানা গিয়েছে, মৃতদেহ প্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। ধূপগুড়ির ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিং বলেন, একেবারে শেষ পর্যায়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি রয়েছে। নির্মাণকারী সংস্থা এবং বিভাগীয় ইঞ্জিনিয়াররা কাজের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। উদ্বোধনের বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করেছি। দ্রুত যাতে চুল্লিটি মানুষের কাজে লাগে তার চেষ্টা চলছে।