দশ মাসেও বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের কাজ শুরু হয়নি ফালাকাটায়

390

ফালাকাটা : ভূমি দপ্তর থেকে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির কাছে জমি হস্তান্তরিত না হওয়ায় দশ মাসেও ফালাকাটায় ২২০ কেভি সাব-স্টেশনের কাজ শুরু হয়নি। সরকারিভাবে জমি চিহ্নিত হওয়ার পর টাকা বরাদ্দ হলেও প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে ফালাকাটার পশ্চিম যোগেন্দ্রপুর এলাকায়। প্রয়াত বিধায়ক অনিল অধিকারির স্বপ্নের প্রকল্প ছিল এই সাব-স্টেশন। ফালাকাটা ও আশপাশ এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতেই গত বছর ডিসেম্বর মাসে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন বিধায়ক। চলতি বছরের শুরুতেই ওই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এক বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির দাবি,সব কিছু প্রস্তুত রয়েছে। জমি হস্তান্তর হলেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ফালাকাটার বিএলএলআরও অবিনাশ লামা বলেন, ‘ওই সাব-স্টেশনের জমি সংক্রান্ত ফাইল জেলায় পাঠানো হয়েছে।’ ব্লকস্তরের যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে বলে তিনি জানান।

ফালাকাটা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বহু পুরোনো ৩৩ কেভির সাব-স্টেশন রয়েছে। ফালাকাটায় লোক সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যাও। তাই ঝড়,বৃষ্টি ও গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে হিমশিম অবস্থা হয় রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানির। এসব কথা ভেবেই গত বছর বিধায়ক অনিল অধিকারি ফালাকাটায় নতুন সাব-স্টেশন তৈরির উদ্যোগ নেন। গত ডিসেম্বর মাসে তিনি এই নতুন সাব-স্টেশন তৈরির কথা জানিয়েছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে গত ৫ জানুয়ারি বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির কর্মকর্তা,বিধায়ক ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা এই প্রকল্পের জন্য জমি পরিদর্শন করেন। এজন্য ফালাকাটা-মাদারিহাট রাজ্য সড়কের তিন মাইল এলাকায় ময়রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম যোগেন্দ্রপুরে ১৮ বিঘা সরকারি জমি চিহ্নিত হয়। স্থির হয়,পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি লিমিটেড ওই নয়া সাব-স্টেশনের কাজ করবে। সেই জমির সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি জমিতে এজন্য বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সংরক্ষিত ওই জমিতে এখন গোরু চরে বেড়াচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি।

- Advertisement -

শহর ও সংলগ্ন এলাকায় এই মুহূর্তে ৫টি হিমঘর রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বেসরকারি কলকারখানা।সন্ধ্যার পর লো ভোল্টেজের কারনে এই সেক্টরগুলিতে সমস্যা হয়। বিপাকে পড়েন সাধারণ গ্রাহকরাও। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা জানিয়েছিল,  নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফালাকাটা ব্লক সহ আশপাশের শালবাড়ি, বীরপাড়া, ঘোকসাডাঙ্গা, মাদারিহাট প্রভৃতি এলাকাতেও বিদ্যুৎ পরিসেবার উন্নতি হবে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি লিমিটেড এর আলিপুরদুয়ারের এক আধিকারিক বলেন, ‘ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য আমরা তৈরি আছি। যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ। জমি হস্তান্তর হলেই কাজ শুরু হবে।’ ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, ‘আসলে বিধায়ক অসুস্থ থাকায় কাজটা শুরু হতে দেরি হয়েছে। বিধায়ককে দিয়েই উদবোধন হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি বিধায়ক প্রয়াত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’ ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘জমি চিহ্নিত হয়েছে। কাজ দ্রুত শুরু হবে।’  ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ বলাই আইন বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ দ্রুত যাতে শুরু হয় সেই চেষ্টা চলছে।’

ছবি :ফালাকাটার পশ্চিম যোগেন্দ্রপুরে সাব-স্টেশনের জন্য চিহ্নিত জমিতে সাইনবোর্ড।

তথ্য ও ছবি : সুভাষ বর্মন