নিউ কোচবিহার থেকে নিউ জলপাইগুড়ি রুটে চাকা গড়াল না বৈদ্যুতিক ট্রেনের

392

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির পরিদর্শনের প্রায় এক মাস পরেও নিউ কোচবিহার থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিষেবা চালু হল না। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে,  বেশ কিছু সমস্যা থাকায় নিউ কোচবিহার-নিউ জলপাইগুড়ি রেলপথে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিষেবা চালু করতে সময় লাগছে। অথচ সাধারণত কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির পরিদর্শনের কয়েকদিনের মধ্যেই পরিষেবা চালু হয়ে যাওয়ার কথা। জানা গিয়েছে, রেলওয়ে সেফটি পরিষেবা চালুর অনুমতি দিলেও কিছু কাজ করার নোট দিয়েছে। সেজন্যই দেরি হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন চন্দ  বলেন, পরিষেবা চালু করার অনুমতি চলে এসেছে। তবে কিছু অবজার্ভেশন, কন্ডিশন ছিল। সেইগুলো ঠিক করে চালু করার কথা রয়েছে।

নিউ কোচবিহার-নিউ জলপাইগুড়ি বৈদ্যুতিকরণের কাজ যে সংস্থা করছে সেই রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের চিফ প্রোজেক্ট ম্যানেজার গৌতম রায় বলেন, শীঘ্রই বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিনে ট্রেন পরিষেবা চালু হবে। কিছু কাজ বাকি ছিল, সেগুলি করা হচ্ছে। কিছু কাজ চলছে। সমস্ত কিছু কম্পাইল করে হেডকোয়ার্টার মালিগাঁওয়ে জমা করা হয়েছে। এখন তারা বললেই চালু করা হবে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ জানুয়ারি নিউ কোচবিহার থেকে রানিনগর পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার রেলপথে বিদ্যুৎচালিত রেলপথ পরিদর্শন করেন কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি খলিল আহমেদ। তিনি দিল্লি থেকে এই কাজের জন্য এসেছিলেন। নিয়ম অনুসারে তাঁর পরিদর্শনের পর অনুমতি দিলেই পরিষেবা চালু হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তারপর প্রায় এক মাস হতে চললেও বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে ট্রেন চালু হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রেলের এক কর্তা জানান, পরিদর্শনের পর পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হলেও বেশ কিছু কাজ শেষ করে তারপর পরিষেবা চালুর কথা বলা রয়েছে কমিশনারের রিপোর্টে। আর এই কাজগুলি করতে গিয়ে এখনও পরিষেবা চালু করা যায়নি। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে,  বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন চালাতে যে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে তাতে কিছু সমস্যা আছে। কিছু সিস্টেমে পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। সিগন্যাল নিয়ে কিছু নোট দেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। সেইসব কাজ করে বুধবারই উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের সদর দপ্তর মালিগাঁওয়ে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছে কাজের বরাতপ্রাপ্ত সংস্থা।

- Advertisement -

সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বুধবার এনএফ রেলের জেনারেল ম্যানেজারের একটি বৈঠকও হয়েছে এই বিষয়ে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে নিউ কোচবিহার পর্যন্ত রেলপথে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিষেবা জানুয়ারি মাসেই চালু করার কথা ছিল। গত ১৯ ডিসেম্বর এই রেলপথে বিদ্যুৎচালিত ইঞ্জিনের ট্রায়াল হয়। এরপর দিল্লি থেকে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি এসে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেন ৪ জানুয়ারি। ঠিক ছিল প্রথমে কয়েকদিন মালগাড়ি চলবে। তারপর ধীরে ধীরে যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে। তবে সেইসব কিছু এখনও চালু হয়নি। ২০১৭ সালে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এই অংশে বৈদ্যুতিকরণের জন্য টেন্ডার হয়। এরপর ২০১৮ সালে কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাস নাগাদ বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর কথা থাকলেও লকডাউনে তা আটকে যায়। জুলাই মাসের পর থেকে বাকি থাকা কাজ শেষ করায় হাত দেওয়া হয়। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড ও কেন্দ্রীয় রেল বৈদ্যুতিকরণ সংস্থা এখানে কাজ করেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে অসমের গুয়াহাটি পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনে ট্রেন চালাতে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।