বিদ্যুতের বিল নিয়ে ধন্ধে গ্রাহকরা

709

শিবশঙ্কর সূত্রধর, কোচবিহার: লকডাউনের জেরে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মিটার রিডিং বন্ধ রয়েছে। ফলে পূর্বতন বিলের গড় হিসেবেই বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে গ্রাহকদের। এদিকে বিভিন্ন গ্রাহকদের তুলনামূলকভাবে বেশি বিল আসায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের মোবাইলে বিলের মেসেজ পাঠানো শুরু করেছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি।

বিদ্যুৎ দপ্তরের কোচবিহারের রিজিওনাল ম্যানেজার স্বাধীন গায়েন বলেন, ‘গত একবছরের বিলের গড় হিসেব করে চলতি নতুন বিদ্যুতের বিল তৈরি করা হচ্ছে। লকডাউন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিটার রিডিংয়ের সময় যদি দেখা যায় বর্তমান বিলের পরিমাণে কমবেশি হয়েছে তাহলে পরবর্তী বিল তৈরির সময় তা সামঞ্জস্য করে নেওয়া হবে। ফলে গ্রাহকদের কোনও সমস্যা হবে না।’

- Advertisement -

ডিভিশনাল ম্যানেজার দীপঙ্কর দাস বলেন, ‘গাইডলাইন মেনে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুতের বিল পাঠানো হচ্ছে। অনলাইন মাধ্যম বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আমাদের দপ্তরগুলিতে গিয়ে বিল জমা দিতে পারবেন গ্রাহকরা।’

কোচবিহার জেলায় প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ গ্রাহক রয়েছেন। প্রায় ২০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয় প্রতিমাসে। মিটার রিডিংয়ের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার পরীক্ষা করে বিল তৈরি করে দেন। কিন্তু করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউন চলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কর্মীরা মিটার রিডিংয়ের জন্য গ্রাহকদের বাড়িতে যাচ্ছেন না। ফলে বিল তৈরি করে গ্রাহকদের মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের মোবাইল নম্বর সংযোগ করা নেই তাঁরা দপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে বিল সংক্রান্ত তথ্য পাবেন।

ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কোচবিহার জেলা সহ সম্পাদক মান্তু রায় বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে রিডিং নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা পূর্বতন বিলের গড় হিসেব করে চলতি বিল তৈরি করছি। সংগঠনের তরফে দপ্তরকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

কোচবিহারের এক বিদ্যুৎ গ্রাহক সুশীলচন্দ্র বর্মন বলেন, ‘গতবার তিনমাসের বিল ৪৮১ ও ৪৫৭ টাকা করে এসেছিল। তবে এবার মোবাইলে ৬৮৭ টাকার বিল এসেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে ধন্ধে রয়েছি।’ কোচবিহারের আরেক বাসিন্দা শুভম রায় জানালেন, গতমাসে ৩৪০ টাকা বিল এসেছিল। তবে এবার ৬৪১ টাকা বিল এসেছে। বিষয়টি নিয়ে জানার জন্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানিতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বলা হল যে, বিল এসেছে সেটাই দিতে হবে।