মালিকানা বিভ্রাটে বিদ্যুৎ বিল আটকে আলিপুরদুয়ার রবীন্দ্র মঞ্চের

98

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে আলিপুরদুয়ার রবীন্দ্র মঞ্চের। কিন্তু বাস্তবে এখনও ওই মঞ্চ হস্তান্তর হয়নি। যার ফলে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির বিলের কাগজ কেউ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ। ফলে বিলের কাগজ নিয়ে একবার পুরসভা, একবার এসডিও অফিসে ঘুরতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির কর্মীদের। এমনকি রবীন্দ্র মঞ্চে থাকা জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকও ওই বিলের কাগজ নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। এই অবস্থায় টাকা পাওয়া তো দূরের কথা, বিলের কাগজ কার হাতে দেবেন সেই কর্তৃপক্ষকেই খুঁজে পাচ্ছেন না বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। অগত্যা বিলের কাগজ জমা করতে না পারলে দিনকয়েকের মধ্যে রবীন্দ্র মঞ্চে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনাল ম্যানেজার দীপেন খাওয়াস বলেন, রবীন্দ্র মঞ্চের একটি বিল বকেয়া আছে। অনেক সময় সরকারি দপ্তর বছর শেষেও বিল মিটিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে কী হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখছি। আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান মিহির দত্ত বলেন, রবীন্দ্র মঞ্চ সরকারিভাবে এখনও আমরা হাতে পাইনি। তাই ওই মঞ্চের নামে কোনও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার দায়িত্বও আমাদের নেই।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে আলিপুরদুয়ার শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অত্যাধুনিক রবীন্দ্র মঞ্চ তৈরি করা হয়। এই মঞ্চের গা ঘেঁষে রয়েছে খোদ আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর বাড়ি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ পরিবেশ মেলার মধ্য দিয়ে ওই আধুনিক রবীন্দ্র মঞ্চের উদ্বোধন করেছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের টাকায় ওই মঞ্চ তৈরি হলেও উদ্বোধনের বিষয়ে তারা কিছুই জানত না। আবার অসমাপ্ত অবস্থাতেই ওই মঞ্চ উদ্বোধন করা হয়েছিল বলে খোদ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাছেও রবীন্দ্র মঞ্চ নিয়ে কোনও তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আজও ওই রবীন্দ্র মঞ্চ পুরোপুরি চালু হয়নি বলে অভিযোগ। মঞ্চটির মালিকানা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন আছে। তবুও বিদ্যুৎ দপ্তর রবীন্দ্র মঞ্চের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসকের নামে রবীন্দ্র মঞ্চের বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবে পুরসভার প্রশাসকের হেডেই বিদ্যুৎ বিল পাঠাচ্ছে দপ্তর। বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে খবর, গত নয় মাসে রবীন্দ্র মঞ্চের বিল এসেছে ৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮০৭ টাকা। কিন্তু এত টাকা বিল এলেও বর্তমানে প্রশাসকের বদলে আলিপুরদুয়ার পুরসভার এখন দায়িত্বে আছেন প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান। তবে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তাঁরা এখনও সরকারিভাবে রবীন্দ্র মঞ্চ হাতে পাননি। সূত্রের খবর, প্রশাসকের নামে বিদ্যুৎ বিল থাকলেও মহকুমা শাসক এখন আর পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে নেই। তাই তিনিও ওই বিল গ্রহণ করছেন না। আবার রবীন্দ্র মঞ্চে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি অফিস থাকলেও বিদ্যুৎ বিল তাদের নামে না থাকাতে তারাও ওই বিলের কাগজ নিচ্ছে না। ফলে এখন রবীন্দ্র মঞ্চের বিদ্যুৎ বিল কে মেটাবেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, আলিপুরদুয়ার পুরসভা রবীন্দ্র মঞ্চ সরকারিভাবে না পেলেও সেখানে বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠান হচ্ছে। অভিযোগ, ওই মঞ্চে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, জেলা তৃণমূল সভাপতি মৃদুল গোস্বামী সহ একাধিক তৃণমূল নেতা তাঁদের অনুষ্ঠান করেছেন। কিন্তু শহরের বিভিন্ন নাট্য সংস্থা, সাংস্কৃতিক কমিটি অনুষ্ঠান করতে পারছে না। মঞ্চটি হস্তান্তর না হওয়ায় প্রশাসনের কোনও দপ্তর কাউকে অনুষ্ঠান করার জন্য অনুমতি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে বিষয়টি নিয়ে শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থার কর্তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আলিপুরদুয়ারের নাট্যকার পরিতোষ সাহা বলেন, অনুষ্ঠান করতে না পারলেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক মিটিং হচ্ছে। এটা আলিপুরদুয়ারের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে লজ্জা।