পূরণ হয়নি প্রতিশ্রুতি, রাতের আঁধার কাটাতে আজিমার ভরসা হ্যারিকেন

52

রণজিৎ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ: আলোয় আলোকিত গোটা গ্রাম। যদিও এখনও অন্ধকারেই রাত কাটে মাধ্য়মিকে ব্লকের সেরা আজিমা খাতুন ও তাঁর পরিবারের। এ যেন ঠিক প্রদীপের নীচে অন্ধকার। বাতি জ্বালাবার কেউ নেই। তবে অভাব নেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার লোকের। ঘটনায় কিছুটা হলেও ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছে আজিমা ও তাঁর পরিবার।

হ্যারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করে গত বছর মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্লকের সেরা হয়েছিলেন আজিমা। এরপরেই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতির বর্ষপূরণ হলেও বাস্তবে তাঁর কোনও প্রতিফলন নেই বলেই অভিযোগ তুলে ধরেছেন আজিমা। আজও হ্যারিকেনে আলোয় রাত কাটাতে হয় তাঁর পরিবারকে।

- Advertisement -

রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম বালাবাড়ি গ্রামের দিনমজুর আজিজুল হক দিনমজুরি করে সংসার চালান। তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কালঘাম ছোটে আজিজুলের। এমতবস্থায় সংসারের হাল ধরতে স্বামীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিনমজুরিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন আয়েশা খাতুন। যদিও অর্থাভাব নিত্য সঙ্গা। এমতবস্থায় বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়ে ওঠেনি ওই পরিবারের। অন্যদিকে অভিযোগ, পারিবারিক অবস্থা অনুযায়ী পরিবারটি বিপিএল আওতাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও এপিএল আওতাভুক্ত রয়ে গিয়েছে পরিবারটি। ফলত সরকারের তরফে সেভাবে সুযোগ সুবিধাও পায় না ওই পরিবার। এমতবস্থায় রাতের আঁধার কাটাতকে ওই পরিবারের একমাত্র ভরসা র‍্যাশন দোকান থেকে পাওয়া কেরোসিন তেল।

মাধ্যমিকে ভালো ফলাফলের পর পূর্ব বর্ধমানের কালনা আলামিন মিশনে থেকে রানাগড় হাইস্কুলে পড়াশোনা করছে আজিমা। কিন্তু সেখানকার খরচও বহন করতে অসমর্থ পরিবারটি। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ হু হু করে বাড়তে থাকায় দু’দিন আগেই আজিমা বাড়ি ফিরে এসেছে আজিমা। বাড়ি ফিরতেই জানতে পারে বিগত দিনে পাওয়া প্রতিশ্রুতি আজও অধরা। এখনও তাঁর বাড়িতে পৌঁছোয়নি বিদ্যুতের আলো।

আজিমার কথায়, নিজে র‍্যাশন দোকান থেকে কেরোসিন তেল এনে হ্যারিকেনের আলোতে পড়াশোনা করেছি। বাবা-মা অনেক কষ্টে আমাকে কালনা আলামিন মিশনে ভর্তি করেছেন। সেখান থেকে বাড়িতে এসে দেখি এখনও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি।

স্থানীয় বিজেপি নেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারটি খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় শাসক দলের নেতারা কোথায় কাটমানি পাওয়া যায় তা নিয়েই ব্যস্ত। পরিবারটিকে তারা দেখছে না।’ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সৌকত আলি বলেন, ‘অন্যের জমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের তার নিতে না দেওয়ায় সমস্যা হয়েছিল। সেটা মিটে গিয়েছে। বিষয়টি বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে যাবে।’