মোমবাতি জ্বালিয়ে চিকিৎসা ভালুকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনভার্টার রয়েছে। কিন্তু সেই ইনভার্টার বিকল। ফলে লোডশেডিং হলে মোমবাতি বা টর্চ জ্বালিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার ভালুকা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত এই সমস্যা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। হরিশ্চন্দ্রপুর রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি তজমূল হোসেন বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনভার্টার সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে। অতি দ্রুত সেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হবে।

হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ভালুকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে তিনজন চিকিৎসক রয়েছেন। ১০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভালুকা, হাতিছাপা, জগন্নাথপুর, ফতেপুর, বর্নাহি ছাড়াও এলাকার আরও বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন। তবে রাতের দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ দেখা দিলে রোগী সহ তাঁদের আত্মীয়পরিজন এবং চিকিৎসকদের দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। লোডশেডিং হলে তা সামাল দিতে একটি ইনভার্টার থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটিও বিকল হয়ে রয়েছে। বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে বা টর্চের আলোতেই অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা চলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে এই ১০ শয্যাবিশিষ্ট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জেনারেটর বসানো হোক। তাহলে এই সমস্যার সমাধান ঘটবে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ভালুকা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র জেনারেটর নেই। ঝড়-বৃষ্টি বা লোডশেডিং হলে অন্ধকারে ডুবে যায় হাসপাতাল। তখন মোমবাতি কিংবা এমারজেন্সি লাইট জ্বালিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা চলে। চরম সমস্যায় পড়তে হয় রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। হরিশ্চন্দ্রপুর টাল উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের গ্রামীণ এলাকায় মাঝেমধ্যেই লোডশেডিং হয়। কিন্তু হাসপাতালের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবা যাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলতে পারে, সেজন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের উচিত গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা। আমরা এই দাবিটি অবিলম্বে স্বাস্থ্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রাখব। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জেনারেটর বসানো হোক।

এপ্রসঙ্গে তজমূল হোসেন বলেন, ভালুকা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সহ অন্য সমস্যাগুলি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে নিয়ে আসব। এছাড়াও যাতে দ্রুত ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সমস্যা মিটে যায়, সেই জন্য রোগীকল্যাণ সমিতির বরাদ্দ অর্থ থেকে বিদ্যুতের বিকল্প কিছু ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখব। অন্যদিকে বিএমওএইচ (হরিশ্চন্দ্রপুর-২) সাগর বসাক বলেন, ওই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনভার্টারে ছোটখাটো সমস্যা হয়েছে। যেটা আমরা তাড়াতাড়ি সারিয়ে তুলব। এছাড়া বিদ্যুৎজনিত আর কোনও সমস্যা থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।