এলেঙ্গিয়ার একমাত্র কবরস্থান চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে

488

রায়গঞ্জ: দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, সভাধিপতি, প্রধানসহ অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। প্রায় দশ বিঘা জমির উপর দুটি গ্রামের আট হাজার মানুষের একমাত্র কবরস্থানটি আজ তলিয়ে যাওয়ার মুখে।

প্রতি বছর বর্ষার সময় নদীতে জল বাড়লেই কবরস্থানটি ভাঙতে শুরু করে। বন্যা হলে তো কথাই নেই। বন্যাতে জলের তীব্রতা এই এলাকায় এতটাই থাকে যে নদীর বাধ ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাই রায়গঞ্জে বন্যা হলে যে স্থানটির নাম সবার উঠে আসে, সেটা হল এলেঙ্গিয়া। এখানকার পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ার একমাত্র কবরস্থানটি আজ চলে যাচ্ছে কুলিকের গর্ভে। আর এর জেরে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, নেতা-মন্ত্রী থেকে সাংসদ, বিধায়ক ও সভাধিপতিরা অনেকবার কবরস্থানটি বোল্ডার দিয়ে বাধিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। হচ্ছে হবে বলে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় কাটিয়ে দিলেন তাঁরা।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ ব্লকের ৯ নম্বর গৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এলেঙ্গিয়াতে পূর্ব ও পশ্চিম পাড়া মিলিয়ে গ্রামে প্রায় আট হাজার ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস। এই গ্রামটির পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গেছে কুলিক নদী। নদীর পশ্চিম পাশে ৮ নম্বর বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েত। নদীটির এপার এবং ওপারের ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের একমাত্র কবরস্থানটি আজ কুলিক নদীর কবলের মুখে। প্রতি বছর ব র্ষার সময় নদীর জলের তীব্রতায় কবরস্থানটি ভাঙতে ভাঙতে মূল নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে। অনেকের সমাধি নদী গর্ভে মিলিয়ে গেছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ‘অনেক আবেদন নিবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। জলের তলায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষদের সমাধি ক্ষেত্র। জানিনা কবে সুরাহা হবে এই গ্রামের মানুষের একটি বড় সমস্যা।‘

এলেঙ্গিয়া গ্রামের বাসিন্দা তথা শংকরপুর হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ মজিবুর রহমান জানান, প্রতিবছর বর্ষার সময় কুলিক নদীর আঘাতে কবরস্থানটি একটু একটু করে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর আর কবরস্থানটির অস্তিত্ব থাকবে না। গ্রামবাসীদের স্বার্থে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে সকলের এগ্রিয়ে আসা উচিৎ।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক সাবির আলী। নির্বাচনের ভোটার লিস্টের কাজে ব্যস্ততার মধ্যে তিনি এদিন বলেন, ‘গ্রামের বর্তমান প্রজন্ম মনে হয় পূর্ব পুরুষদের কবরস্থান আর ধরে রাখতে পারবে না। যেভাবে নদী কবরস্থান গ্রাস করছে, সত্যি আমরা চিন্তিত।‘

নেতা-মন্ত্রীরা এসে বলে গিয়েছিলেন, বোল্ডার দিয়ে পার বানিয়ে দেবেন। কিন্তু কেউ আজ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। ফলে বিগত দশ বছরে এই কবরস্থানের বহু জায়গা আজ নদীর তলায়।জানি না কবে আমাদের এই সমস্যা মিটবে।

গৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের এলেঙ্গিয়া সংসদের পঞ্চায়েত সদস্য দারাজুদ্দিন আহমেদ জানান, আমরা এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত। গ্রামের মানুষের এটি বড় সমস্যা। কবর স্থানের চারিদিক বোল্ডারিং জোন করার কথা ছিল।অনেকেই বলে গিয়েছিলেন। এত বড় কাজ তো গ্রাম পঞ্চায়েত করতে পারে না। তাই জেলা পরিষদ এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদকে জানানো হয়েছে। আশা রাখি, খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তবে গ্রামবাসীরা আর নেতা-মন্ত্রীদের কথায় ভরসা রাখতে পারছেন না, তাই তাঁরা আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবে বলে জানিয়েছেন।