হাতির ভয়ে পাকার আগেই ধান ঘরে তুলছেন কৃষকরা

340

কামাখ্যাগুড়ি ও শামুকতলা : কুমারগ্রাম ব্লকের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল লাগোয়া বস্তিগুলির মধ্যে অন্যতম কাঞ্জালিবস্তি। উত্তরদিকে ভুটান পাহাড় এবং তিনদিকে বক্সার ঘন জঙ্গল হওয়ার কারণে এলাকায় প্রায়ই হাতির আনাগোনা লেগে থাকে। কাঞ্জালিবস্তি এলাকায় সবমিলিয়ে প্রায় ৪০০ বিঘারও বেশি জমিতে স্থানীয়রা ধান চাষ করেন। শীতের শুরুতে বিশেষত ধান পাকার সময় থেকেই এলাকায় ফসলের ক্ষেতগুলিতে হাতির হানা বেড়ে যায়।

এবছরও কাঞ্জালিবস্তির কৃষকরা নিজেদের জমিতে ধান লাগিয়েছেন। ধান পুরোপুরি পাকতে এখনও বেশ কিছুদিন দেরি। কিন্তু হাতির হানার ভয়ে সময়ের আগেই ফসল ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান কেটে ফেলা হয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় কৃষক সুরজামন মঙ্গর বলেন, ‘বর্ষাকালে ধান ছাড়া অন্য কোনো ফসলের চাষ করি না। কিন্তু ধান পাকার সময় এলেই হাতির হানা বেড়ে যায়। পালা করে এলাকার বাসিন্দারা টংঘরে রাত পাহারা দিই। কিন্তু তা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে অসতর্ক হলেই হাতিরা দলবেঁধে এসে ধানের ক্ষেত তছনছ করে দেয়।’ অন্য এক বাসিন্দা দীলবাহাদুর ধীমান বলেন, ‘আমাদের বস্তিতে প্রতিদিনই কখনও সন্ধ্যার পর, কখনও বা গভীর রাতে হাতির দল চলে আসে। কার্তিক অঘ্রান মাসে হাতির হানা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সবসময় বিস্তীর্ণ এলাকায় হাতিদের ওপর নজর রাখা সম্ভব হয় না।’

বন দপ্তর থেকে কয়েকটি টংঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয়রা নিজস্ব উদ্যোগে জমির মাঝখানে নির্দৃষ্ট দূরত্বে টংঘর তৈরি করে রাত জেগে ফসল পাহারা দেন।বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সময় নিয়মিত হাতির হানা রুখতে হাতিদের গতিবিধির ওপর প্রতিনিয়ত বনকর্মীরা নজর রাখেন। বনদপ্তর ও বাসিন্দাদের তৎপরতায় এবছর হাতির হানায় ফসলের বড় কোনো ক্ষতি এখনও না হলেও তাদের ভয়েই আগেভাগে ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। বন দপ্তরের নর্থ রায়ডাক রেঞ্জের আধিকারিক গেবু লেপচা বলেন, ‘হাতিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে নিয়মিত টহল চলছে। বস্তির বিভিন্ন জায়গায় ফেন্সিংও করে দেওয়ার কাজ চলছে। এর পরেও হাতির হানায় ফসলের ক্ষতি হলে আবেদনকারীরা সরকারি নিয়মে ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন।’

ছবি : কাঞ্জালিবস্তিতে ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক।- অরিন্দম চক্রবর্তী

তথ্য : অরিন্দম চক্রবর্তী ও হরিপদ পাল