হাতির হানায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

264

শামুকতলা: মাঝরাতে হাতির হানায় ক্ষতির সম্মুখীন মহাকালগুড়ির বড়চৌকিরবসের কয়েকজন কৃষক। রবিবার মাঝরাতে ওই এলাকায় ৬-৭টি হাতির একটি দল হানা দিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের দক্ষিণ রায়ডাক রেঞ্জের ছিপড়া, রয়ডাকের বনাঞ্চল থেকে মাঝে মাঝেই পার্শ্ববর্তী মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে হাতির দলের হানা লেগেই থাকে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বাকলা স্কুলডাঙ্গা, ছোট ও বড়চৌকিরবসের বিভিন্ন এলাকায় হাতির হানায় ফসলের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার রাতের হানায় বড়চৌকিরবসের সুশীল দাসের ১ বিঘা জমির বেগুনের ক্ষেত নষ্ট হয়। এছাড়াও, অনিল দাস, রঞ্জিত রায়, শ্যামল রায়, বাবলু রায়ের মোট ৭-৮ বিঘা জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এলাকার কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বনদপ্তরের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনিল দাস বলেন, ছিপড়ার জঙ্গল থেকে রায়ডাক ১ নং নদী পেরিয়ে মাঝে মাঝেই হাতির দল লোকালয়ে চলে আসে। আমরা জঙ্গল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকলেও হাতির হানা থেকে রেহাই নেই। ভরা বর্ষার মরশুমেও কেন হাতির হানা হল তা নিয়ে সন্দিহান কৃষকরা।

- Advertisement -

এলাকার যুবক অম্লান দাস বলেন, হাতি ও বাঁদরের উৎপাতে অতিষ্ট আশপাশের ৫-৬টি গ্রাম। বন দপ্তরের উদাসীনতার কারণেই হাতির দল লোকালয়ে চলে আসে। সঠিকভাবে টহলদারি হলে এমনটা হত না। এদিকে লোকালয়ে হাতির হানার কারণ হিসেবে জঙ্গল ধ্বংসকেই দায়ী করছেন পরিবেশপ্রেমীদের একাংশ। আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের চেয়ারম্যান অমল দত্ত বলেন, জঙ্গলে হাতিদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাব রয়েছে। প্রচুর জঙ্গল বিগত দুই দশকে ধ্বংস হয়েছে। দক্ষিণ রায়ডাকের বনাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাতেই বড় গাছপালা নেই। মারাখাতা এলাকায় একরের পর একর শুধু ঝোপঝাড় চোখে পড়ে। খাদ্যের অভাবেই হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।

শুখার মরশুমে জঙ্গলে খাদ্য ও জলের অভাব থাকায় হাতির হানা বেড়ে যায়। কিন্তু বর্ষায় কেন এমনটা হচ্ছে সে বিষয়ে দক্ষিণ রায়ডাক রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন, ধান চাষের মরশুমে হাতিদের আনাগোনা বেড়ে যায়।বনকর্মীদের দুটি দলে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি রাতেই টহলদারি চলছে। গ্রামবাসীদের কাছে যোগাযোগের নম্বর দেওয়া আছে। খবর পেলেই বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতির দলকে বনে ফিরিয়ে দেয়। ক্ষতিগ্রস্তরা নির্দৃষ্ট ফর্মে আবেদন করলে নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে তিনি জানান।