হাতির হানা অব্যাহত, তাড়াতে হিমশিম বনকর্মীরা

542

ময়নাগুড়ি: জঙ্গল থেকে বেরিয়ে প্রতিদিনই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গ্রামে ঢুকে পড়ছে হাতি। বিশেষ করে ধান খেতের পর আলু খেতে হাতির উপস্থিতি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন দপ্তরের কাছে। গরুমারা জঙ্গল ঘেঁষা ময়নাগুড়ি ব্লকের শেষ সীমানা রামশাইতে শুরু হয়েছে হাতির আনাগোনা। এলাকার জঙ্গল ঘেঁষা বনবস্তি সহ বিস্তীর্ণ গ্রামগুলিতেও সন্ধ্যের পরে চলে আসছে হাতি। সেই হাতিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে বনকর্মীদের। দিনরাত এক করে সেই নজরদারিতে ত্রুটি রাখছেননা বনকর্মীরা।

গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের রামশাই মোবাইল স্কোয়াডের রেঞ্জার বিশ্বজ্যোতি দে জানান, প্রতিদিন একই সময়ে একাধিক এলাকাজুড়ে হাতি বের হওয়ার খবর আসতে শুরু হয়েছে। বছরের অন্যান্য দিনগুলিতে হাতির আনাগোনা থাকলেও চলতি মরশুমে আলুর খেতে হাতির উপস্থিতি অনেকটাই বেশি। কখনও একটি হাতি কখনও আবার সদলবলে হাতি চলে আসছে গ্রামের মাঝে। সন্ধ্যে থেকে ভোর অবধি প্রতিদিনই হাতির সঙ্গে চলছে বনকর্মীদের লুকোচুরি খেলা। এলাকার রামশাই বাজার থেকে জলঢাকা নদী লাগোয়া বারোহাতি, কামারঘাট, নৌকাবিহার, কালিবাড়ি, সিদ্ধাবাড়ি সহ ক্যানেল লাগোয়া ক্ষেমনের হাট, উত্তর কালামাটি, চাকুলার হাট, ঝাড়মাটিয়ালি সহ বিস্তীর্ণ এলকায় বেরিয়ে আসছে হাতি।

- Advertisement -

রেঞ্জার জানান, অনেক ক্ষেত্রে একই সময় বিভিন্ন এলাকায় হাতি বের হওয়ার খবর আসছে সেক্ষেত্রেই কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। অনেক ক্ষেত্রে একটি এলাকা থেকে সেই এলাকাতে কিছুটা দেরি হয়ে যাওয়া মাত্র সমস্যাতেও পড়তে হচ্ছে, তবুও তাঁরা কোনও খামতি রাখছেন না। এলাকাবাসীদের তাঁরা সজাগ থাকতে বলছেন। যদিও বনবস্তি এলাকায় ধান কাটা হয়ে যাওয়ার দরুণ সেই সকল এলাকায় হাতির দলের আগমন সেভাবে নেই। কিন্তু জলঢাকার চরের কয়েক কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকার মাঝে কয়েকশো বিঘা আলুর খেত থাকার জন্য ওই এলাকায় হাতির আগমন বেড়েছে। কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় হাতি হানা দেওয়ার ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। তাই কামারঘাট ও বারোহাতি এলাকায় চারটি দল গঠন করা হয়েছে বলে জানান রেঞ্জার। সেই প্রত্যেকটি দলে ১০ জন করে সদস্য তথা চাষিরা রয়েছেন। দলগুলিকে সার্চ লাইট ও পটাকা দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাঁরা সন্ধ্যের পর নিজ নিজ এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন। স্কোয়াডের একটি মাত্র গাড়ি হওয়ার দরুণ অনেক সময় দূরত্বের জন্য সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয়রা যদিও বন দপ্তরের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে যাতে নজরদারির জন্য আরও একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে বন দপ্তর। যদিও বিশ্বজ্যোতিবাবু জানান, গাড়ির বিষয়টি সম্পূর্ণ ওপর মহলের বিষয়। তারা সেই দাবি উপর মহলে জানিয়েছেন।