ভুট্টার লোভে তারের বেড়া ছিঁড়ল হাতি

284

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: বনের পাশে লাগিয়ে রাখা হয়েছে সৌরবিদ্যুতবাহী তার। তবে তাতেও এলাকায় হাতির প্রবেশ আটকানো যাচ্ছে না। ভুট্টার লোভে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গ্রামে হানা দিচ্ছে হাতির পাল।

শুক্রবার রাতে মাদারিহাট ব্লকের ইসলামাবাদ গ্রামের হাজিপাড়া লায়কাধুরা এলাকায় ভুট্টা খেতে হানা দেয় একটি দাঁতাল। হাতির হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভুট্টাখেত। গতকাল রাতেও একই জায়গায় প্রবেশের চেষ্টা করে দাঁতালটি। তবে, সেটিকে কোনওক্রমে বাধা দেন রাভাবস্তির বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা বিপিন রাভা বলেন, ‘আমাদের মহল্লার খেলার মাঠ থেকেই হাতিটি বনে ফিরে যায়।’

- Advertisement -

আরও পড়ুন: করোনা সংক্রমণ রুখতে রায়গঞ্জ মেডিকেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ

অবশ্য হাতি আটকানোর জন্য সৌরবিদ্যুতবাহী তারের বেড়া দেয়নি বনদপ্তর। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের উত্তর খয়েরবাড়ির বনের ভিতর রাভাবস্তির রাস্তার পাশের ফাঁকা অংশে তৈরি হয়েছে ঘন বন। ‌‌ওই এলাকার একটি অংশে রোপণ করা চারাগাছগুলি গবাদি প্রাণী থেকে রক্ষা করতে বনদপ্তরের তরফে এলাকাটি সৌরবিদ্যুতবাহী তার দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাদারিহাট রেঞ্জ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় কয়েক হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছিল যেগুলির বেশিরভাগই বেড়ে উঠেছে। বন ফের ঘন হতে শুরু করায় হাতির পালও ঠাঁই নিচ্ছে খয়েরবাড়িতে। তবে, বন সংলগ্ন ইসলামাবাদ গ্রামের লায়কাধুরা, বলোয়াধূরা, হাজিপাড়া, দৌলতপুর, হেদায়েতপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই বন থেকে বেরিয়ে আসা হাতির হানায় এলাকায় চাষবাস করা এমনকি বসবাস করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। সৌরবিদ্যুতবাহী তারের বেড়াও এলাকায় হাতির প্রবেশ আটকে রাখতে পারছে না। বর্তমানে, ভূট্টাখেতে লাগাতার হাতি হানা দিচ্ছে।

ভুট্টার লোভে তারের বেড়া ছিঁড়ল হাতি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

প্রসঙ্গত, মাদারিহাট রেঞ্জের খয়েরবাড়ি বনাঞ্চলের চারিদিকে রয়েছে মাদারিহাট-বীরপাড়া ও ফালাকাটা ব্লকের বিভিন্ন জনবসতি এলাকাগুলি। গ্রামগুলিতে ওই বন থেকে বেরিয়ে প্রায়ই হানা দেয় হাতির পাল। মাঝে মাঝে দলছুট হাতিও হানা দেয়। ওই এলাকাগুলিতে হাতির হানায় লোকজনের মৃত্যুও হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতির হানায় প্রতি বছর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয় এলাকায়। আবাদ করা ফসলের একটা বড় অংশই যায় হাতির পেটে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, হাতির হানায় লাগাতার ক্ষতির ফলে অনেকেই চাষবাস ছেড়ে ভিনরাজ্যে গিয়ে দিনমজুরের পেশাকে বেছে নিয়েছেন।

ইসলামাবাদ গ্রামের বলোয়াধূরার বাসিন্দা সুশীল ওরাওঁ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় হাতির হানায় চাষবাসতো দূরের কথা, বসবাস করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। এমনকি সৌরবিদ্যুতবাহী তারের বেড়া ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে হাতি।’

আরও পড়ুন: বীরপাড়ায় গাড়ি সহ কাঠ বাজেয়াপ্ত

এই বিষয়ে উত্তর খয়েরবাড়ির বিট অফিসার বিধান দে বলেন, ‘হাতির হানার খবর পেলেই ছুটে যাচ্ছেন বনকর্মীরা।’ বনদপ্তরের মাদারিহাট রেঞ্জ সূত্রে জানানো হয়েছে, হাতির হানায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।