গ্রামে এসে দোকান তুলে পালানোর চেষ্টা দাঁতালের

203

সমীর দাস, হাসিমারা: চকলেট, বিস্কুট, পটেটো চিপস খেয়ে মন ভরছিল না। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করে গ্রামে ঢুকে পুরো দোকানটাই বগলদাবা করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল বক্সা বাঘ বনের গুদামডাবরি জঙ্গলের দামাল হাতিটি।

যদিও ৮ ফুট বাই ৬ ফুটের কাঠের দোকানটি তুলে নিয়ে বেশি দূর যেতে পারেনি দাঁতালটি। গ্রামের পাশেই আস্ত দোকানটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বুনো হাতিটি। বুধবার রাতভর হাতিটি একপ্রকার তান্ডব চালিয়েছে গুদামডাবরি জঙ্গল লাগোয়া দলবদল বস্তিতে। দুটো বাড়ি ভেঙে মজুদ খাদ‍্য শস্য খেয়ে হাতিটি বৃদ্ধা গ্রামবাসী দিলমায়া ছেত্রির ছোট পান দোকানে হামলা চালায়।

- Advertisement -

হাতির হামলা থেকে প্রাণে বাঁচতে গ্রামবাসীরা বাড়ি থেকে বাইরে গিয়ে নিরাপদ আস্তানায় দাঁড়ান। বৃষ্টিতে সাড়া রাত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাঁদের। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জঙ্গল থেকে মাঝে মধ্যে হাতিটি বের হয়ে এসে ওই বস্তির পাশে মধু চা বাগানে আগে ঢোকে। সেখান থেকেই বস্তিতে ঢুকে পড়ে দাঁতালটি। বৃদ্ধা দিলমায়া ছেত্রি পান, চকলেট, বিস্কুট বিক্রি করে কোনওমতে সংসার চালান।

বুধবার বিকেলেই তিন হাজার টাকার মাল এনে দোকানে রেখে ছিলেন। রাতে দাঁতালটি সে সব সাবাড় করে দিয়েছে। এখন নতুন করে মাল আনতে পারছেন না তিনি। এলাকার বাসিন্দা বরুন ছেত্রি, বিকাশ ছেত্রির ঘর ভেঙে তছনছ করে দাঁতালটি। শুধু তাই নয়, দাঁতালটি গ্রামের প্রচুর সুপারি গাছ নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ।

গ্রামের বাসিন্দা প্রকাশ ছেত্রি বলেন, হাতির হামলা নিত‍্যদিনের ঘটনা হয়ে গিয়েছে। রাতে দাঁতালটি হামলা চালানোর পর আমরা বনদপ্তরে জানিয়েছিলাম। সেখান থেকে হাতি তাড়াতে কেউ আসেননি। তাঁর অভিযোগ, হাতির হামলার পর ক্ষতিপূ্রণের আবেদন জানালেও বন দপ্তরের তরফে সঠিক সময়ে ক্ষতিপূরণের ব‍্যবস্থা করা হয় না।

বক্সা ব‍্যাঘ্র প্রকল্পের অধীন হ‍্যামিল্টনগঞ্জের রেঞ্জ অফিসার অমলেন্দু মাঝি বলেন, গত রাতের হামলার কথা গ্ৰামবাসী জানাননি। রেঞ্জ অফিস থেকে খুব বেশি দূরে নয় ওই গ্রামটি। তাই খবর পেলে অন‌্য দিনের মতোই হাতি তাড়াতে বনকর্মীরা গ্রামে যেতেন। তিনি আরও বলেন, ওই গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে বনকর্মীরা গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বাড়ি ও একটি দোকান ভেঙেছে হাতি। ক্ষতিগ্ৰস্থরা আবেদন করলে তাঁরা সরকারি ক্ষতিপূরণ পাবেন। তিনি জানান, গ্রামবাসীদের বন দপ্তরের তরফে সার্চ লাইট দেওয়া হয়েছে।