শামুকতলা, ১২ জুন : মঙ্গলবার রাতভর তাণ্ডব চালাল একটি বুনো দাঁতাল। আতঙ্কে দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি শামুকতলার তুরতুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি বড় অংশের মানুষ। বুধবার সকালেও তুরতুরি বেলতলা ও বিশ্বাসপাড়ায় দাপিয়ে বেড়ায় ওই দাঁতাল হাতি। লোকালয়ে বুনো হাতির আক্রমণ দিনদিন বাড়তে থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। হাতির হানা রুখতে বন দপ্তরের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার রাত ন’টা নাগাদ বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের (পূর্ব) নর্থ রায়ডাক রেঞ্জের কার্তিক জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে একটি দাঁতাল। ধওলা ১ ও ২ বস্তিতে রাতভর তাণ্ডব চালায় সে। হাতির তাণ্ডবে গোটা রাত জেগে কাটান ধওলাবস্তির বাসিন্দারা। কলা গাছ, বাঁশ গাছ, সুপারি গাছ ভেঙে সে ভুট্টা খেত তছনছ করে দেয়। এতেও পেট না ভরায় ভোরবেলা হানা দেয় তুরতুরি বেলতলা ও বিশ্বাসপাড়া এলাকায়। বেলতলায় বাদল শিকদারের বাড়ির সামনে গাছ থেকে কাঁঠাল খায়। ভুরিভোজ সেরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কার্তিক জঙ্গলে ফিরে যায়। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা পিটার লাকড়া জানান, জমিতে ধানের রোয়া লাগানো হয়েছে। হাতির পায়ের চাপে সদ্য বোনা ধান খেতের ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্বাস পাড়ার শ্যামল বিশ্বাস বলেন, প্রায়শই জঙ্গলের হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। রাতভর তাণ্ডব চালাচ্ছে, গাছপালা নষ্ট করছে। সকালে মাঠে ঘাটে গোরু-ছাগল বাঁধতে গিয়ে বুনো হাতির রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জঙ্গলে না ফেরা পর্যন্ত আক্রমণের ভয় থেকেই যায়।সবদিক থেকেই প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতির হামলা রুখতে বনকর্মীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম (এলিফ্যান্ট স্কোয়াড) তৈরি করা হয়েছে নর্থ রায়ডাক রেঞ্জে। কিন্তু ওই দলের সদস্যরা  সঠিকভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন না। হাতির হামলা রুখতে এই বিশেষ দল কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকায় প্রায় প্রতিরাতেই হানা দিচ্ছে দাঁতাল হাতি। কয়েকদিন আগে তুরতুরি বিশ্বাসপাড়ায় ছোটনে পান্নার বাড়িতে কাঁঠাল গাছ উপড়ে ফেলে দেয় একটি হাতি। আর এদিন তো গোটা মহল্লায় তাণ্ডব চালিয়েছে।

এব্যাপারে নর্থ রায়ডাকের রেঞ্জ অফিসার অতনু ভান্ডারী জানান, হাতিপোতা চুনিয়াঝোড়া এলাকায় হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আপাতত বিশেষ দল সহ এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের মোবাইল ভ্যানটি ওই এলাকায় রয়েছে। লোকালয়ে হাতির হানা রুখতে গতকাল রাতেও বনকর্মীরা রুটিন টহল দিয়েছে। গ্রামে হাতি ঢুকেছে, এমন খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে বনকর্মীদের পাঠানো হয়। দ্রুত পরিসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আলাদা করে দুটি মোবাইল নম্বরও বাসিন্দাদের দেওয়া হয়েছে। গ্রামে হাতির ঢুকেছে অথচ খবর দেওয়ার পরেও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে যাননি, এমনটা কোনোদিন হয়নি, আগামীতেও হবে না ।