দাঁতালের হানায় গুরুতর জখম এক

256
ফাইল ছবি

কুমারগ্রাম: অভাবের সংসারে মাছ ধরতে যাওয়াই কাল হয়ে দাঁড়াল পেশায় দিনমজুর হাজিমুদ্দিন মিয়াঁর জীবনে। বাড়ি লাগোয়া আবাদি জমিতে পেতে রাখা জালে মাছ পড়েছে কিনা দেখতে গিয়ে রবিবার সাতসকালে বুনো দাঁতালের খপ্পরে পড়েন তিনি।

ঘটনার জেরে প্রাণে বেঁচে গেলেও হাতির আক্রমণে তাঁর বাঁ পা ভেঙে যায়। ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় কুমারগ্রাম ব্লকের হাতিপোতা বাজার লাগোয়া ৩ নম্বর কলোনিতে। বন প্রশাসনের কর্মীরা আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দাঁতালের আক্রমণে বাঁ পা ভেঙে যাওয়ায় জলকাদায় পড়ে যান বয়স্ক হাজিমুদ্দিন মিয়াঁ। পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি অসহায়ভাবে আঁকড়ে ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার জুড়ে দেন তিনি। তাঁর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীদের ছুটে আসতে দেখে ঘটনাস্থল ছেড়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের (পূর্ব) সাচাফুর জঙ্গলে ঢুকে যায় দাঁতালটি।

স্থানীয়রা জখম ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে কাপড়চোপড় দিয়ে ভাঙা পা বেঁধে দেন প্রতিবেশীরাই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন হাতিপোতা রেঞ্জের বনকর্মীরা। দ্রুত চিকিৎসার জন্য আহত ব্যক্তিকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বনদপ্তরের কর্মীরা।

দাঁতালের হানায় গুরুতর জখম এক| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু ধর জানান, বুনো দাঁতালের আক্রমণে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের আচমকা এমন পরিস্থিতি হওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী সোকিনা বিবি। তাঁরা যাতে অভুক্ত না থাকেন সেজন্য ১০ কিলোগ্রাম চাল, ১ কিলোগ্রাম ডাল, ১ লিটার তেল এবং ১ কিলোগ্রাম নুনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

এব্যাপারে এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা অঞ্জুনা লাকড়া বলেন, পরিবারটি খুবই গরীব। এমন বিপদের সময় পরিবারটি যাতে স্পেশাল জিআর বাবদ খাদ্যসামগ্রী পায় সেজন্য প্রধানকে পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়েছি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে হাতিপোতা রেঞ্জের অফিসের রেঞ্জারবাবু চিরঞ্জীব সাহা বলেন, হাতির হানায় জখম ব্যক্তির চিকিৎসা আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে চলছে। তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসা এবং যাবতীয় ওষুধপত্রের খরচ বনদপ্তর বহন করবে।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি বাড়িতে গিয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদেরকে আশ্বস্থ করেছেন হাতিপোতা বিটের বিটবাবু লতিব শেখ। তিনি জানান, বন প্রশাসন ওই পরিবারের পাশেই আছে।