লালগড়ে কুয়ো থেকে উদ্ধার হস্তীশাবক

102

মেদিনীপুর: সাতসকালে পরিত্যক্ত কুয়োতে পরে গেল এক হস্তীশাবক। ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার সকালে মেদিনীপুর জেলার লালগড় এলাকার এক গ্রামে। এদিন সেখানকার বাসিন্দারা বনকর্মীদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে প্রাণ বাঁচালেন একটি হস্তীশাবকের। এদিকে ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে লালগড় গ্রাম সংলগ্ন চাষের খেতে একাধিক হাতির পালকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীরা। খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরে। সেইসঙ্গে হাতির পালকে জঙ্গলে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেন। একটু এগোতেই গ্রামবাসীদের কানে একটি পরিত্যক্ত কুয়ো থেকে বিকট শব্দ ভেসে আসে। আওয়াজ শুনতে পেয়ে গ্রামবাসীরা এগিয়ে গিয়ে দেখেন একটি হস্তীশাবক প্রায় ২০ফুট নিচে কুয়োয় পরে ছটফট করছে। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা হস্তীশাবকের মা, সন্তানকে উদ্ধার করার জন্য চিৎকার করতে থাকে। এরপরই গ্রামবাসীদের তৎপরতায় দড়ি, বাঁশ, লোহার চেন নিয়ে হস্তীশাবকটিকে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়।

- Advertisement -
লালগড়ে কুয়ো থেকে উদ্ধার হস্তীশাবক| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
হুলা পার্টির সাহায্য নিয়ে হাতির পালটিকে কিছুদূর তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুলা পার্টির সাহায্য নিয়ে হাতির পালটিকে কিছুদূর তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই গ্রামবাসীরা এগিয়ে যায় কুয়োটির দিকে। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বনদপ্তরের কর্মীরা। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই হস্তীশাবকটিকে ওই পরিত্যক্ত কুয়ো থেকে বের করা সম্ভবপর হচ্ছিল না। অবশেষে মাটি খোঁড়ার যন্ত্র এনে ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় গভীরতা কমানো হয় কুয়োটির। তারপর বনদপ্তরের কর্মীরা নিচে নেমে হাতিটিকে দড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। হস্তীশাবকটি উপরে উঠতেই বনদপ্তরেরর কর্মীরা দেখে নেন শরীরে কোথাও আঘাত আছে কিনা। শাবকটির শারীরিক কোনো অসুবিধে নেই সেবিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা মা হাতির কাছে ছেড়ে দেওয়া হয় শাবকটিকে।

উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই দক্ষিণ ভারতে একটি দলছুট হাতি রিসোর্টে ঢুকে পড়ায় তাকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে ওই রিসোর্টের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। শস্য খেতে হাতি চলে আসা আটকাতে আনারসের মধ্যে বোমা রেখে অমানবিক ঘটনার নজির রয়েছে কেরালায়। কিন্তু লালগড়ে মঙ্গলবার সকালের ঘটনা, বন্যপ্রাণের প্রতি এইসব হিংস্র আচরণের বিরুদ্ধে উৎসাহজনক নজির গড়ল বলে মনে করছেন বনদপ্তর আধিকারিকরা।