হস্তীশাবককে বাঁচালেন চার মাহুত ও পাতাওয়ালা

- Advertisement -

মাদারিহাট : বুধবার সকালে তোর্ষা নদীতে ভেসে যাচ্ছিল মা হারা মাত্র পাঁচদিনের একটি হস্তীশাবক। ঘটনাটি নজরে পড়তেই নিজেদের জীবন বিপন্ন করে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন দুই মাহুত ও দুই পাতাওয়ালা। প্রাণপণ লড়াই করে চারজন শাবকটিকে উদ্ধার করেন। প্রাণে বাঁচে শাবকটি। প্রায় ঘণ্টাখানেক লড়াই করার পর শাবকটিকে পাড়ে তুলতে সক্ষম হন এই চারজন। জলদাপাড়ায় এমন ঘটনা আগে কখনও হয়েছে বলে মনে করতে পারলেন না বনকর্মীরা।

ঘটনাটি হয়েছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের কোদাল বস্তি রেঞ্জের নর্থ-ইস্ট কর্নার বিটের বি ওয়ান কম্পার্টমেন্টের তোর্ষা নজরমিনারের কাছে। কোদাল বস্তি রেঞ্জের অফিসার ধীরাজ কামি জানান, সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ দেখা যায়, একটি ছোট হস্তীশাবক জলে ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু নদীতে প্রচুর জল ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই শাবকটি দুই নদীর মাঝে ছোট একটি চরে ভেসে গিয়ে ওঠে। তখন তাঁরা মেনকা, সুন্দরী ও আনারকলি নামের তিনটি কুনকি হাতি নিয়ে শাবকটিকে উদ্ধার করতে যান। তিনি জানান, সকালের প্রচণ্ড বৃষ্টিতে মুহূর্তের মধ্যে ওই চর জলে ডুবে যায়। আর শাবকটি ভেসে যেতে থাকে। এরপর হাতি নিয়ে পিছু নেওয়া হয়।

সেই সময় জঙ্গলে হাতি নিয়ে তোর্ষা টাওয়ারে ডিউটি করছিলেন মাহুত শ্যারণ শৈব, জাহাঙ্গীর হক এবং পাতাওয়ালা বিপ্লব বিশ্বকর্মা ও নরসিং রাভা। হস্তীশাবকটিকে নদীতে ভেসে যেতে দেখে তাঁরা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শ্যারণ বলেন, ওইটুকু শাবক বাঁচার জন্য কী লড়াই করেছে। নিজেদের কথা ভুলে গিয়ে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি। দুপুর ১টা নাগাদ পাড়ে তুলে আনতে পারি। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বনাধিকারিক কুমার বিমল জানান, মাহুত ও পাতাওয়ালারা নিজেদের জীবন দিয়ে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করছেন। শাবকটিকে হলং সেন্ট্রাল পিলখানায় আনা হয়েছে।

- Advertisement -