বক্সার জঙ্গলে হাতির মৃতদেহ উদ্ধার

496

কামাখ্যাগুড়ি: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের মারাখাতার জঙ্গল লাগোয়া লোকালয়ে হাতির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। মঙ্গলবার পাটখেত এবং সুপারি বাগানের মাঝে পূর্ণবয়স্ক মাকনা হাতিটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার রাতে হাতিটি মারাখাতার জঙ্গল লাগোয়া পশ্চিম চ্যাংমারিতে স্থানীয় বাসিন্দার সুপারি বাগানে ঢোকে। সেখানে কয়েকবার চিৎকারও করে। আজ সকালে চাষের কাজে গিয়ে হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখে বনকর্মীদের খবর দেওয়া হয়।

- Advertisement -

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এটি একটি মাকনা হাতি। আনুমানিক বয়স ৪০ বছর। এই বিষয়ে দক্ষিণ রায়ডাক রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার শুভায়ু সাহা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে হাতিটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ময়নাতদন্তের আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অনুমান ছাড়া সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর দুটি হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পূর্ব বিভাগের জঙ্গলে। হাতিপোতা রেঞ্জের নূরপুর এলাকায় একটি হাতি মৃত্যুর দিন সাতেকের ব্যবধানে ফের আরেকটি হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

বন দপ্তর সূত্রে প্রাথমিকভাবে হাতিটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, এইনিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পরিবেশ এবং পশুপ্রেমী মহলে। বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংস্থার অভিযোগ, বন দপ্তর হাতি মৃত্যুর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ইচ্ছে করেই চেপে যায়। এদিন হাতিটির মৃত্যু খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকেও হতে পারে বলে অনুমান করছে বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা।

এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের বরিষ্ঠ কর্মকর্তা অমল দত্ত জানান, মারাখাতার জঙ্গলে গাছপালা নেই বললেই চলে। বন প্রশাসনের উদাসীনতায় বনভূমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। নানা ধরনের কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। যে কারণে বন্য জীবজন্তুর জীবন বিপন্ন হচ্ছে। মানুষের হাত পড়ায় জঙ্গলের ভেষজ গাছগাছালি দিনকেদিন উধাও হয়ে যাচ্ছে। কোনও কারণে বন্যপ্রাণীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিভিন্ন ভেষজ গাছগাছালির অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছে। বন এবং বন্যপ্রাণ রক্ষায় এগুলি নিয়ে বন প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের যথাযথ পদক্ষেপ করা উচিৎ।