লো ভোল্টেজে টিমটিম আলো, হাতির ভয়ে কাঁটা গ্রামবাসী

445

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: লো ভোল্টেজ। তাই ফ্রিজ চলে না। ফ্যানও ঘোরে না মাদারিহাটের খয়েরবাড়ি বন লাগোয়া ইসলামাবাদ গ্রামের একটা বড় অংশে। ওই গ্রামের হেদায়েতপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে লো ভোল্টেজের সমস্যায় ভুগছে ওই এলাকার কয়েকশো পরিবার। সবচেয়ে বড়ো কথা হল, সন্ধ্যে হতে না হতেই গ্রামে হানা দেয় হাতি। অথচ, লো ভোল্টেজের কারণে উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থাও করতে পারছেন না তাঁরা।

প্রয়োজন মোতাবেক ভোল্টেজ না থাকায় বাল্ব জ্বলে টিমটিম করে। স্থানীয়রা জানান, তাঁরা লো ভোল্টেজের সমস্যার সমাধান চেয়ে এর আগেও বিদ্যুৎ দফতরে আবেদন জানিয়েছিলেন। গত ১৩ অগাস্ট বিদ্যুৎ দফতরের মাদারিহাটের কার্যালয়ে ফের একটি গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা তাজমল হক বলেন, আমরা সবাই কৃষিকাজ করি। কিন্তু বিদ্যুতচালিত পাম্পসেটের সাহায্যে জলসেচের ব্যবস্থা করার কল্পনাও করতে পারি না আমরা। কারণ, ভোল্টেজ এতই কম যে বেশি ওয়াটের বাল্ব পর্যন্ত জ্বলে না। বিষ্ণু ওরাওঁ বলেন, অসহ্য গরমে ফ্যান পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারি না আমরা। মহম্মদ শাহাজাদা বলেন, হাতির হানা  থেকে বাঁচতে উজ্জ্বল আলো প্রয়োজন। কিন্তু আমরা বছরের পর বছর ধরে লো ভোল্টেজের সমস্যায় ভুগছি। বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও লাভ হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার কয়েকশো পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য ট্রান্সফর্মারটি রয়েছে দু’কিমি দূরে দরবেশ তফিয়তের (রহ:) দরগার কাছে। অথচ এত দূরে এতগুলি পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা একটিমাত্র ট্রান্সফারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মাঝে মাঝেই বিগড়ে যায় ট্রান্সফর্মারটি। এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির মাদারিহাটের স্টেশন ম্যানেজার গৌতম বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।