বন্ধ বাগানে হাতির হামলায় বিপর্যস্ত শ্রমিক মহল্লা

239

সমীর দাস, হাসিমারা: একে তো বাগান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ বছর ধরে। তার ওপর প্রতিনিয়ত বুনো হাতির হামলায় শ্রমিকদের জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। বাগানের শ্রমিকদের অভিযোগ, লকডাউনের জেরে এমনিতেই রুজিরোজগারে টান পড়েছে শ্রমিকদের। এরমধ্যে প্রায় প্রতিরাতে বাগান সংলগ্ন গুদামডাবরির জঙ্গল থেকে একটি বিশালাকার দাঁতাল হাতি বাগানে ঢুকে শ্রমিক মহল্লায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। শুক্রবার রাতেও ওই দাঁতালের হামলায় বাগানের অন্তত তিনটি শ্রমিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্ৰস্তদের তালিকায় রয়েছেন বাগানের এক পঞ্চায়েত সদস্য। এছাড়াও আদিবাসী বিকাশ পরিষদের স্থানীয় কর্মকর্তার বাড়িতেও হামলা চালায় দাঁতালটি।

বাগান সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ দাঁতালটি প্রথমে হামলা চালায় বাগানের যোগী লাইনের বাসিন্দা ও আদিবাসী বিকাশ পরিষদের কালচিনি ব্লক কমিটির অন‍্যতম কর্মকর্তা নির্মল লোহারের বাড়িতে। দাঁতালটি শুঁড় দিয়ে নির্মলবাবুদের পাকা রান্না ঘর ভেঙে সেখানে রাখা আনাজ, চাল, ডাল, আটা খেয়ে সাবাড় করে। এরপর দাঁতালটি বাগানের ওষুর লাইনে হামলা চালিয়ে এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য চামেলি ওরাওঁয়ের ছোট দোকান ঘরটি ভেঙে ফেলে দোকানে রাখা খাদ‍্যসামগ্ৰী খেয়ে সাবাড় করে বলে অভিযোগ। এরপরই দাঁতালটি বিরসু লাইনের শ্রমিক ফুলমতি ওরাওঁয়ের আবাসন ভেঙে দেয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় ধরে তাণ্ডব চালানোর পর দাঁতালটি জঙ্গলে ফিরে যায়।

- Advertisement -

পরিষদের নেতা নির্মল লোহার বলেন, ‘রাতে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। তার মধ‍্যে কিছুদিন ধরে আমি ভীষণ অসুস্থ। তাই হাতি বাগানে ঢোকার খবর পেয়ে কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বাগানে হাতি ঢুকেছে খবর পেয়েও বনকর্মীরা হাতি তাড়াতে আসেননি। বন দপ্তর সার্চ লাইট, পটকার মতো হাতি তাড়ানোর সামগ্ৰীও দিচ্ছে না।’ নির্মলের কথায়, ‘বাগান প্রায় ৬ বছর ধরে বন্ধ পড়ে রয়েছে। শ্রমিকদের সমস্যার শেষ নেই।’

বক্সা ব‍্যঘ্র প্রকল্পের অধীন হ‍্যামিল্টনগঞ্জের রেঞ্জ অফিসার অমলেন্দু মাঝি বলেন, ‘বাগানের ক্ষতিগ্রস্ত আবাসনগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে। হাতি তাড়াতে বাগানের শ্রমিকদের নিয়ে টিম তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন জানালে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’