পুজোর আগে গজলডোবায় হাতি সাফারি, মাহুত নিয়ে সমস্যা

427

পূর্ণেন্দু সরকার  জলপাইগুড়ি : মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প গজলডোবায় ভোরের আলো পর্যটনকেন্দ্রে এলিফ্যান্ট রাইডিং করা নিয়ে হাতি পাওয়া গেলেও মাহুত নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বন দপ্তর হাতি দিতে রাজি হলেও মাহুত ও পাতাওয়ালা পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে দুর্গাপুজোর আগেই ভোরের আলো পর্যটনকেন্দ্রে চালু হচ্ছে এলিফ্যান্ট রাইডিং। পর্যটন দপ্তর এবং রাজ্য বন দপ্তর এই প্রকল্পের কাজ করছে। গজলডোবায় জলদাপাড়া অভয়ারণ্য থেকে পাঠানো হবে ৪টি কুনকি হাতি। যদিও চলতি মাসেই এই সমস্যা বন দপ্তর এবং পর্যটন দপ্তর আলোচনা করে সুরাহা করে নেবে বলে জানানো হয়েছে।

গজলডোবাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যে ইকো রিসর্ট তৈরি করা হয়েছে। পাখিবিতান নামে পক্ষী অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তৈরি হচ্ছে অর্কিড থিম পার্ক সহ একগুচ্ছ প্রকল্প। ভোরের আলো ইকো রিসর্টের পাশেই চলছে পিলখানা তৈরির কাজ। পর্যটন দপ্তরের অর্থে বন দপ্তরের উদ্যান ও কানন বিভাগ থেকে এই কাজ করা হচ্ছে। খরচ ধরা হয়েছে ৮০-৯০ লক্ষ টাকা।

- Advertisement -

উদ্যান ও কানন বিভাগের উত্তরবঙ্গের  ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, হাতিদের থাকার জায়গা পিলখানাকে উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে যাতে জল না জমে। মাহুত,পাতাওয়ালাদের থাকার জায়গা করা হচ্ছে। টিকিট কাউন্টার,পর্যটকদের বসার জায়গা, হাতির পিঠে ওঠার জায়গা, পানীয় জল, হাতিদের স্নানাগার, পিলখানার চারপাশে প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে। লাগানো হয়েছে কলা, কাঁঠাল গাছ। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই পিলখানার কাজ শেষ করে পর্যটন দপ্তরকে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে এখন সবচেয়ে বেশি প্রায় একশোর কাছাকাছি কুনকি হাতি রয়েছে। কিন্তু তুলনায় পাতাওয়ালা ও মাহুতের সংখ্যা অত্যন্ত কম। মোট কুনকি হাতির ৫০ শতাংশেরও অনেক কম। এই অবস্থায় বন দপ্তর ৪টি কুনকি হাতি পাঠাতে রাজি হলেও মাহুত,পাতাওয়ালা দিতে রাজি নয়। কারণ এতে জলদাপাড়ার জঙ্গল ও বন্যপ্রাণী পাহারার কাজে সমস্যা হবে। তাই হাতি দিলেও মাহুত, পাতাওয়ালা পর্যটন দপ্তর নিজেরাই জোগাড় করুক এমনটাই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বন্যপ্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে।

বন দপ্তরের এই মতামত শুনে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পর্যটন দপ্তর। পর্যটন দপ্তরের কথায়, য়ে কুনকি হাতি ৪টি আনা হচ্ছে তাদের দেখভাল করে যে মাহুত, পাতাওয়ালা, একমাত্র তাদেরই দরকার। রাজ্য বন দপ্তরের উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত প্রধান বনপাল বিপিন সুদ বলেন, পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমাদের উদ্যান ও কানন বিভাগ গজলডোবায় পিলখানা তৈরির কাজ করছে। জলদাপাড়া থেকে ৪টি হাতি দেবো আমরা। বাকি বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। পর্যটন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, গজলডোবা থেকে সরস্বতীপুর চা বাগান, বৈকুণ্ঠপুর বনাঞ্চলের ভিতর বেশ কয়েটি রুটে এলিফ্যান্ট রাইডিংয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই আমরা চেষ্টা করছি গজলডোবায় পর্যটকদের জন্য এলিফ্যান্ট রাইডিংয়ে পরিসেবা চালু করতে। বন দপ্তরের সঙ্গে সবদিক নিয়ে  আলোচনা চলছে