মৃত্যুমুখ থেকে প্যারালিম্পিকের মঞ্চে এলি

লন্ডন : প্রতিবন্ধকতা কোনও বাধা নয়। বরং ইচ্ছা থাকলে তাকে জয় করা যায়। তারজন্য দরকার মানসিক শক্তি, অদম্য জেদ আর সাহস।

কথার কথা নয়। বাস্তবের সেই জয়ের রূপকার এলি চালিস। গ্রেট ব্রিটেনে বছর ১৭-র প্যারালিম্পিয়ান সাঁতারু। এবার টোকিও প্যারালিম্পিকে গ্রেট ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাথলিটও বটে।

- Advertisement -

এলির প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই এককথায় অলীক, অকল্পনীয়। ষোলো বছর আগে মারণ মেনিনজাইটিসে হারিয়েছিলেন দুই হাত, পা। বয়স তখন মাত্র ১৬ মাস! হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে একসময় থেমে গিয়েছিল হৃদস্পন্দন। মিনিট দুয়েক কোনও সাড় ছিল না। তারপর ধীরেধীরে ফেরে প্রাণের স্পন্দন। দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ কোমায় আচ্ছন্ন ছিল ছোট্ট একরত্তি এলি। এসবই অসহায়ে মতো দেখতে হয়েছে তাঁর বাবা, মা পল ও লিসা চালিসকে। হাসপাতালের বেডে মেয়ের কালো হয়ে আসা অবশ হাত, পা দেখে তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন এলির ভবিতব্য কী হতে চলেছে। সেপ্টোসেমিয়া থেকে মেয়েকে বাঁচাতে শেষপর্যন্ত বাদ দিতে হয়েছিল তাঁর দুই হাত, দুই পা।

বয়স বাড়ার সঙ্গে নিজের প্রতিবন্ধক জীবনকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন এলি। তবে দমে যাননি। বরং চেষ্টা করেছেন নিজেকে অন্য উচ্চতায় মেলে ধরার। এলির বক্তব্য, বাবা হয়তো ভেবেছিল আমি আর কখনও হাঁটতে পারব না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে এবার আমি প্যারালিম্পিক্সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছি। বলার সময় খুশির ঝলক খেলে যায় এলির মুখে।

আর পল? এলির দেখভালের জন্য একসময় কাজ ছেড়েছিলেন। মেয়ে কৃতিত্বে আজ তিনি গর্বিত পিতা। সেই গর্বিত কণ্ঠেই বলেন, ছোটবেলা থেকেই এলি শান্ত স্বভাবের। সবসময় ওর মধ্যে নতুন কিছু করার তাগিদ দেখতাম। সেটাই ওকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।