সরকারি সাহায্য অধরা, বিনা চিকিৎসায় চোখ হারিয়ে ভোট দিতে নারাজ বিসুয়া

109

হরিশ্চন্দ্রপুর: প্রতিবন্ধী শংসাপত্র হবে, আবাস যোজনার ঘর হবে, ভাতার বন্দোবস্ত হবে। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি মিললেও, হয়নি কিছুই। ২৯ বছর বয়সে বিনা চিকিৎসায় অন্ধ হয়ে যাওয়া বিসুয়া দাস এখন ৬৩ বছরের বৃদ্ধ। প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে থাকতে ভোটে উৎসাহ হারিয়েছেন তিনি।

হরিশ্চন্দ্রপুরের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভবানীপুরের বাসিন্দা বিসুয়া। ভবানীপুরে তাঁর ভাঙাচোরা মাটির বাড়ি। দরজা, জানালা নেই। বাড়িতে স্ত্রী কুশমি, ১৪ বছরের ছেলে বলরাম ছাড়াও রয়েছেন মেয়ে জয়ন্তী। দিনমজুরি করেই সংসার চালাতেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় দুটো চোখই অন্ধ হয়ে যায় তাঁর। তারপর থেকে চরম অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে তাঁদের। বন্ধ হতে চলেছে ছেলের পড়াশোনা।

- Advertisement -

বিসুয়া বলেন, ‘ আমি অন্ধ, অনেক জায়গায় দেখিয়েছি কিন্তু কিছু ঠিক হয়নি। এখন আর কিছু দেখতে পাইনা। প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম কিন্তু কোনো সাহায্য করেননি। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও এগিয়ে আসেনি।স্ত্রী কাজ করে, এখন ঘরে বসে আছি। ঘর নির্মাণের জন্য আবেদন করেও ঘর পাইনি। দু-পা হাঁটতে গেলেও ছেলের সাহায্য নিতে হয়।‘ হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিও অনির্বান বসু বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। নির্বাচন মিটলে সব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।‘ গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য দীপ্তি কর্মকার বলেন, ‘আবাস যোজনার জন্য ওদের নাম পাঠানো রয়েছে। নির্বাচন মিটলে যাতে সরকারি সুবিধে মেলে তা দেখা হবে। যদিও এতদিন কেন পরিবারটির সাহায্য মেলেনি তার সদুত্তর মেলেনি।‘