আশ্বাসই সার, এক বছরেও বাঁধ সংস্কার হয়নি

264

প্রণব সূত্রধর আলিপুরদুয়ার : আশ্বাসই সার। একবছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কালজানি এবং চেকো নদীর বাঁধ সংস্কার হয়নি। ফলে চলতি বর্ষায় নদীর জল বেড়ে গিয়ে বাঁধ ভেঙে গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা গ্রামবাসীদের। তাই ফের বাঁধ সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন চাপরেরপাড়-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চেংপাড়ার কয়েক হাজার বাসিন্দা।

দক্ষিণ চেংপাড়ার গ্রামটিকে একদিকে কালজানি আর অপরদিকে চেকো নদী ঘিরে রেখেছে। প্রতি বছর বর্ষা আসতেই দুটি নদীর ভাঙন শুরু হয়। গত বর্ষায় কালজানি নদীর বাঁধে দুই জায়গায় ফাটল দেখা দিলে স্থানীয়রা বাঁধ সারাইয়ের দাবিতে পথ অবরোধ করেছিলেন। এরপর প্রশাসনের তরফে বাঁধ সারাইয়ের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসীরা। সেসময় বাঁধে জরুরিকালীন মেরামতির কাজও হয়। বালির বস্তা এবং পাথর দিয়ে সাময়িক ফাটল মেরামত করা হয়। কিন্তু জল কমলে ভালোভাবে বাঁধ মেরামতি করার কথা হলেও একবছর থেকে আর সেই কাজ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া একবছর থেকে বাঁধের ঝোপঝাড় সাফাই করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।  গ্রামবাসীদের বক্তব্য, দক্ষিণ চেংপাড়ার নামাবলি এলাকায় কালজানি নদীর পাড়বাঁধের নীচের দিকের পাথর সরে গিয়েছে। অনেক জায়গায় এখনও মাটির বাঁধ এবং পাড়বাঁধের বাঁধন আলগা হয়ে পাথর খসে পড়ছে। কালজানি নদী বাঁক নিয়ে তাঁতিপাড়া এলাকায় পাড় ভাঙছে। বর্ষার শুরুতেই ভাঙন চাষের জমি গ্রাস করছে। শুধু কালজানি নয়, চেকো নদীর ভাঙনেও শঙ্কিত বাসিন্দারা।

- Advertisement -

বীরেন রায় নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বাঁধের নীচের দিকে পাথর সরে গিয়েছে। গতবছর বাঁধে ফাটল দেখা দিলে আমরা গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ করি। তখন বালির বস্তা ও পাথর ফেলে বাঁধ মেরামত করা হয়। তবে একবছরেও বাঁধের কাজ কেনও শুরু করা হচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না। দিগম্বর রায় নামে অপর বাসিন্দা বলেন, পাড়বাঁধের পাথরের বাঁধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। নীচের পাথর খসে পড়ছে। বাঁধ আগাছায় ভরে উঠেছে। অবিলম্বে বাঁধ মেরামত করা না হলে বর্ষাকালে বাঁধ ভেঙে বিপদ ঘটতে পারে। তবে, করোনা সংকটের জেরে জনসমাগম এড়াতে কাজ বন্ধ ছিল। লকডাউন শিথিল হতেই অনেক জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে।  চাপরেরপাড়-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রকাশ রায়সরকার জানান, দক্ষিণ চেংপাড়ায় বাঁধের সমস্যার যাবতীয় তথ্য সেচ দপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।

সেচ দপ্তরের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রিয়ম গোস্বামী জানান, নদীর পাড়বাঁধের কিছু কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনই ভয়ের কোনও কারণ নেই। সব কিছু আমাদের নিরীক্ষণে রয়েছে। টেন্ডার করা হয়েছিল। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কেউ অংশগ্রহণ না করায় তা বাতিল হয়ে যায়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ আবার শুরু করা হচ্ছে।