ফুলহরে বাঁধের সংস্কার হয়নি, ফের বানভাসি হওয়ার আশঙ্কা

249

দেবদুলাল সাহা, রতুয়া : বরাদ্দ মিললেও লকডাউনের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে কাজ শুরু হলেও বর্ষা নেমেছে। ফলে ফুলহরের বাঁধ সংস্কার ও ভাঙন রোধের কাজ ব্যাহত হচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর ও রতুয়ায়। এর ফলে বাসিন্দাদের পাশাপাশি উদ্বেগে সেচ দপ্তরও। বন্যার আগে ভাঙন রোধের কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সেচ দপ্তরের তরফে বন্যা শুরু হওয়ার আগেই বাঁধ সংস্কার ও ভাঙন রোধের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশ্বাস মিলেছে।

মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ও রতুয়া-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ফুলহর নদী। ওই নদীর বন্যার হাত থেকে চাঁচল মহকুমাকে রক্ষার জন্য সাতের দশকে সেচ দপ্তর নদীসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২২ কিমি দীর্ঘ একটি বাঁধ নির্মাণ করে। গতবছর রতুয়ার কাহালা-দেবীপুর রিংবাঁধের একাংশ ভেঙে গিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় জল ঢুকে পড়ে। এর ফলে চাঁচল মহকুমার রতুয়া ও হরিশ্চন্দ্রপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। সমস্যায় পড়েন কয়েক হাজার মানুষ। এরপর বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাঁধের ভাঙা অংশের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয় ওই বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের দাযিত্বে থাকা মহানন্দা এমব্যাংকমেন্ট ডিভিশনের কর্মকর্তারা। অবশেষে সেচ দপ্তরের তরফে কাজের বরাত মেলে। কিন্তু লকডাউনের কারণে শ্রমিকরা কাজ করতে রাজি না হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয় সেচ দপ্তরকে। কাজেই ওই সময় রতুয়ায় বাঁধের ভাঙা অংশে কাজ শুরু সম্ভব হয়নি। এরপর লকডাউন শিথিল হতেই  তড়িঘড়ি

- Advertisement -

সেচ দপ্তর বাঁধের ভাঙা অংশে স্থাযী ভাঙন রোধের কাজ শুরু করে। এর জন্য সেচ দপ্তর বরাদ্দ করে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। প্রায় ৬২৫ মিটার এলাকাজুড়ে কাজ শুরু হলেও বর্ষার কারণে বাঁধের কাজ অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ভালুকা এলাকায় ৬০০ মিটার ও খিদিরপুর এলাকায় তিনটি ধাপে ৩৫০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন রোধের স্থায়ী কাজ শুরু হয়েছে। এরজন্য সেচ দপ্তর বরাদ্দ করেছে যথাক্রমে ১ কোটি ৬০ লক্ষ ও ৩ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। কোথাও বালির বস্তা দিয়ে পাইলিং, আবার কোথাও তারের ক্যারোটের মধ্যে বালির বস্তা ও বোল্ডারের পাইলিংয়ের কাজ রয়েছে। তবে বর্ষার কারণে ওই দুটো এলাকায় পুরোদমে কাজ শুরু সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত বর্ষার জন্য ভালুকায় মাটি ফেলার কাজও বন্ধ রয়েছে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর।  তবে খিদিরপুর এলাকায় কাজ চলছে ।

রতুয়ার কাহালার বাসিন্দা সুশান্ত সিংহ বলেন, বন্যার আগে বাঁধের কাজ শেষ না হলে গতবারের মতো আবার বন্যায় ভাসতে হবে। তাই আমরা চাই বন্যার আগে কাজ শেষ করুক সেচ দপ্তর। এছাড়াও এবছর নদীভাঙনের প্রকোপ কতটা থাকছে তার উপর নির্ভর করবে বাঁধের স্থায়িত্ব।  ভালুকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ মহলদার বলেন, প্রথমে লকডাউন ও পরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাঁধের কাজে অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে। নদীতে জল বাড়ার আগে ভালুকায় বাঁধের সংস্কারের কাজ শেষ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে সেচ দপ্তরের কাছে। সেচ দপ্তরের মহানন্দা এমব্যাংকমেন্ট ডিভিশনের জেলা নির্বাহী বাস্তুকার বলেন, লকডাউন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ভাঙন রোধের কাজে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বন্যার আগে যাতে কাজ শেষ হয়।