অনুশীলনের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে উঠতি খেলোয়াড়রা

111

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : করোনা পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়িতে ক্রিকেট, ফুটবল এবং ব্যাডমিন্টনের কোচিং ক্যাম্পের ১,১০০ শিক্ষার্থীর অনুশীলন পুরোপুরি বন্ধ। কোপ পড়েছে পেশাদারি কোচদের উপার্জনেও। একবছর হল সিএবি থেকে ক্রিকেটের দুই কোচের সাম্মানিক ভাতা আসা বন্ধ হয়েছে। আইএফএ জলপাইগুড়ি ফুটবল কোচিং ক্যাম্পের কোচের সাম্মানিক ভাতা পাঠানো বন্ধ করেছে। ফলে অনিশ্চিত খেলাধুলো ও খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ।

জলপাইগুড়িতে এফইউসি, টাউন ক্লাব, রায়কতপাড়া স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন, নেতাজি মডার্ন, দাদাভাই, জেওয়াইএমএ এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্প রয়েছে। একইভাবে জেওয়াইএমএ, টাউন ক্লাব, নেতাজি মডার্ন, জেওয়াইসিসি, এফইউসি এবং ডিএসএ-র ফুটবল কোচিং ক্যাম্প রয়েছে। ব্যাডমিন্টনের দুটি কোচিং সেন্টার- জলপাইগুড়ি মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম এবং জলপাইগুড়ি টাউন ক্লাব।

- Advertisement -

ক্রিকেটের পেশাদারি কোচ পার্থ মণ্ডল জানালেন, জলপাইগুড়ির সাতটি ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্পে ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানকার ছেলেমেয়েরা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারছে না। জলপাইগুড়ি কোচিং ক্যাম্পের সুরজিৎ রায়, আকাশ ঘোষ, মানিক বর্মন, সায়ক দাস কলকাতায় প্রথম বিভাগীয় ক্রিকেট লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছে। অথচ তাদের সামনে এখন অনিশ্চয়তা। জলপাইগুড়ি ক্যাম্পেরই রুকমণি রায় রাজ্য মহিলা ক্রিকেট দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনুশীলন না করার জেরে খেলোয়াড়রা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে- একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে পার্থবাবু বলেন, কোচিং না হওয়ার ফলে আমরা পেশাদারি কোচরা রোজগার করতে পারছি না। ফলে সাংসারিক খরচ চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। পার্থবাবুর কথায় সায় জানিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব কুমার দত্ত বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ক্রিকেটের দুজন কোচকে এবং ফুটবলের একজন কোচকে সাম্মানিক ভাতা দিতে পারছি না। তিনি জানান, করোনার জন্য প্রতিটি ক্যাম্পই বন্ধ। ক্লাবগুলির আর্থিক অবস্থাও শোচনীয়। কুমারবাবুর বক্তব্য, কোচিং না হওয়ায় ভালো খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জলপাইগুড়ি। জেওয়াইসিসি-র সচিব অলোক সরকার বলেন, আমাদের ক্যাম্পে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ক্যাম্প চালাতে আমরা মহাবিপাকে পড়েছি। যদিও এখন ক্যাম্প বন্ধ। কবে চালু হবে তা অনিশ্চিত।

জলপাইগুড়িতে দুটি ব্যাডমিন্টন কোচিং সেন্টার রয়েছে। জলপাইগুড়ি টাউন ক্লাবের কোচিং সেন্টারে ৬০ জন শিক্ষার্থী অনুশীলন  করে।  ক্লাবের সিনিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট সন্তু চ্যাটার্জি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ফি নেওয়া হত তা এখন উঠছে না। ক্লাবের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি মাসে কলকাতার একজন কোচ এবং তিনজন সহযোগীকে ৬০ হাজার টাকা দিতে হয়। এভাবে কতদিন দিতে পারব, আমরা তা বলতে পারছি না। তিনি জানান, এই কোচিং ক্যাম্পে বেশ কয়েকজন ভালো ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। অনুশীলনের অভাবে তারা পিছিয়ে পড়ছে। জলপাইগুড়ি মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সমস্যা একই। এখানে এস্টাব্লিশমেন্ট কস্ট মেটাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের।