বদলার ম্যাচে নজরে নেইমারের আবেগ

শিলাজিৎ সরকার, কলকাতা : একটা সাধারণ ম্যাচ। কিন্তু তা অসাধারণ হয়ে উঠছে নেইমারের সৌজন্যে।

ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে রিও শহরে নিল্টন স্যান্টোস স্টেডিয়ামে ব্রাজিল বনাম কলম্বিয়া লড়াই অবশ্য একেবারেই একপেশে। কারণ ধারেভারে অনেকটাই পিছিয়ে কলম্বিয়ানরা। হালফিলে শাকিরার দেশের সবচেয়ে বড় নাম জেমস রডরিগেজকে ফিটনেস ইস্যুতে বাদ দিয়েছেন কোচ রেইনাল্ডো রিভেরা। তবে ইউরোপের প্রথমসারীর বিভিন্ন ক্লাবে খেলা ইয়েরি মিনা, ডুভান জাপাতা, হুয়ান কুয়াদ্রাদো, ডেভিড ওস্পিনারা দলে আছেন। কিন্তু ম্যাচের ফলে তা বোঝা মুশকিল। যে পেরুকে ব্রাজিল হারিয়েছে ৪-০ গোলে, তাদের কাছেই শেষম্যাচ হেরেছে কলম্বিয়া। ফলে চ্যাম্পিয়নশিপের দাবিদার ব্রাজিলের সঙ্গে কলম্বিয়ার লড়াই খাতায়-কলমে বেশ সাদামাটা।

- Advertisement -

তবুও প্রতিবেশীদের এই লড়াইয়ে রং লাগছে নেইমারের সৌজন্যে। ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে বিশ্রী ফাউল করেছিলেন কলম্বিয়ান সাইডব্যাক ক্যামিলো জুনিগা। এক নম্বর তারকাকে ছাড়া সেমিফাইনালে জার্মানদের কাছে লজ্জার হার জোটে ব্রাজিলের। পরের বছর কোপায় গ্রুপের ম্যাচে কার্লোস বাক্কার সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে নির্বাসিত হন নেইমার। কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ের কাছে দলের গার দেখেছিলেন গ্যালারিতে বসে। এবার কোপায় টানা দুই ম্যাচ জিতে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে এখন ফোকাসে হলুদ-সবুজ জার্সিতে নেইমারের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সম্ভাবনা। পেলেকে (৭৭) পেছনে ফেলতে আর ১০ গোল করতে হবে নেইমারকে (৬৮)। কোপায় ফাইনাল খেললে এখনও ৬ ম্যাচ পাবেন তিনি। এরমধ্যে পেলের কতটা কাছে যাবেন তিনি, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।

অবশ্য পূর্বসূরীর রেকর্ড ভাঙা নিয়ে আবেগপ্রবণ নেইমার। তাঁর কথায়, ব্রাজিলের ইতিহাসের অংশ হওয়াটা আমার জন্য গর্বের বিষয়। ব্রাজিলের হয়ে খেলা, এই জার্সিটা গায়ে দেওয়াটাই আমার স্বপ্ন ছিল। এতগুলি গোল করার কথা কখনও ভাবিনি। গত দু-তিন বছরের আমরা বেশ কঠিন সময়ে মধ্য দিয়ে গিয়েছি। ফলে এই বিষয়টা আমার কাছে বেশ আবেগের। দেশের হয়ে খেলার খুশির কাছে এই সংখ্যাগুলোর কোনও মূল্যই নেই। সেলেকাও ফুটবলের পোস্টারবয়কে নিয়ে উচ্ছ্বসিত পেলের বক্তব্য, নেইমারের খেলা দেখে আমি খুশি হই, গোটা দেশ খুশি হয়। জানি ও আমার রেকর্ড ভাঙার দিকে এগোচ্ছে। ও এটা করতে পারলে আমি আন্তরিকভাবে খুশি হব।

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে কোচ টিটের ফর্মশেন নেইমারকে বাড়তি উৎসাহ দেবে। পাঁচের দশকে ব্রাজিলে জনপ্রিয় ৪-২-৪ ছকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে টিটের। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো আর ফ্যাবিনহোকে রেখে সামনে নেইমারের সঙ্গে গ্যাব্রিয়েল জেসুস, গ্যাব্রিয়েল বার্বোসা আর রিচার্লিসনকে জুড়ে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারেন তিনি। নেইমার সম্পর্কে টিটের বক্তব্য, ও এখন দলের ইঞ্জিন। গোল করছে, করাচ্ছে। কখনও ডান পা, কখনও বাঁ পায়ে খেলে। ফলে ওকে আটকানো অসম্ভব। আর আমরাও নেইমারকে মাথায় রেখেই স্ট্র‌্যাটেজি তৈরি করি।

সেই স্ট্র‌্যাটেজি সঙ্গে নিয়ে এক কিংবদন্তির নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে কিংবদন্তি হওয়ার পথে কিছুটা এগিয়ে যেতে নামবেন নেইমার।