আদালত চত্বরে কড়া মেজাজ এনামূলের

263

আসানসোল, ২৪ ডিসেম্বরঃ আসানসোল আদালতে এসে বৃহস্পতিবার মেজাজ হারালেন গোরু পাচারের মামলায় ধৃত এনামূল হক। এদিন সিবিআই অফিসাররা যখন তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাত ধরে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে হাত ছাড়িয়ে নেন। সিবিআইয়ের অফিসারদের উদ্দেশ্যে ধমক দিয়ে হিন্দিতে বলেন, “পকরিয়ে মত, পকরিয়ে মত! মিডিয়াকা সামনে যাদা দিখা রাহে হো?” চিৎকার করে গোরু পাচারের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত আরও বলেন, “মিডিয়ার সামনে বেশি দেখাচ্ছেন?” এরপর নিজেই এনামূল আদালতের ভেতর ঢুকে পড়েন। তবে, আদালতে ঢোকার ঠিক মুখে ক্যামেরায় তাঁর ছবি তুলতে যাওয়ায় চিত্র সাংবাদিকদেরও মারতে উদ্যোত হন এনামূল। সেই সময় ছবি তুলতে আসা এক চিত্র সাংবাদিককে এনামূল ধাক্কা মারেন। তবে, এদিন এনামূলকে আসানসোলে বিশেষ সিবিআই আদালতে তোলা হলেও, শুনানি হয়নি।

আসানসোল আদালতের এক আইনজীবির মৃত্যুর কারণে বৃহস্পতিবার সব এজলাসে সমস্ত শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। ফলে গরু পাচার কাণ্ডে ধৃত এনামূল হককে আসানসোলে সিবিআই বিশেষ আদালতে তোলা হলেও, এদিন শুনানি হয়নি। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ফের এই মামলার শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়েছে। সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় দু’পক্ষের আইনজীবির সঙ্গে কথা বলে রায় যতদিন রায় দিচ্ছেন না, ততদিন পর্যন্ত জেল হেপাজতে থাকবেন এনামূল। এদিন এনামূল হকের আইনজীবি হিসেবে ছিলেন ফারুক রাজ্জাক ও শেখর কুন্ডু, অন্যদিকে সিবিআইয়ের আইনজীবি হিসাবে ছিলেন রাকেশ সিং।

- Advertisement -

গত ১১ ডিসেম্বর এনামূল হক আসানসোলের সিবিআই আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেমন। সেদিন সিবিআইয়ের আইনজীবি তাকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য বিচারকের কাছে সাওয়াল করেছিলেন। কিন্তু, বিচারক সেই আবেদন খারিজ করেন। জামিন নাকচ করে তাকে ১৪ দিনের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে জেল হেপাজতে থাকা এনামূলকে নিজেদের হেপাজতে চেয়ে সিবিআই কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করেছিল। সিবিআইয়ের সেই আবেদনের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মামলার রায়ে সিবিআইকে ১৯ ডিসেম্বর থেকে ৫ দিন হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেইমতো গত শনিবার সকালে সিবিআইয়ের একটি দল কলকাতা থেকে আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারে যায়। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী সিআরপিএফের সাহায্যে সিবিআই অফিসাররা এনামূলকে কলকাতা নিয়ে যান। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এদিন তাকে আসানসোল বিশেষ সিবিআই আদালতে হাজির করা হয়।

তবে এই প্রথম নয়, এনামূল আসানসোল জেল হাজতে থাকাকালীনও মেজাজ হারিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরআগে সিবিআইয়ের দুই অফিসার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের অনুমতি নিয়ে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়েছিলেন, অভিযোগ সেই সময় সেই অফিসারদের সঙ্গেও দু্র্ব্যবহার করেছিল এনামূল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এনামূল তাঁদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যথেষ্ট উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল বলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিনও একইভাবে আদালত চত্বরে দেখা যায় যথেষ্ট উত্তেজিত রয়েছে গোরু পাচার মামলায় অন্যতম এনামূল হক। প্রসঙ্গত, এই মামলার আরও এক অভিযুক্ত বিএসএফের কম্যান্ড্যান্ট সতীশ কুমারকে আদালত দু’দিন আগেই শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে।