গরু পাচার মামলায় ফের এনামুল হকের জামিন নাকচ

210

আসানসোল: গরু পাচার মামলায় এ বছর আর জামিন পেলেন না এনামুল হক। বুধবার সকালে তাকে আসানসোলের বিশেষ সংশোধনাগার থেকে আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে নিয়ে আসা হয়। সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়ের এজলাসে এনামুল হকের আইনজীবীরা তার জামিনের জোর সওয়াল করেন। কিন্তু চিড়ে ভিজল না। জামিন মিলল না এনামুলের। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ জানুয়ারি।

এদিনের শুনানিতে এনামুলের আইনজীবীরা বলেন, এতদিন জেল-জিজ্ঞাসাবাদের পরও অভিযোগ প্রমাণে সিবিআই বিশেষ তথ্য দিতে পারেনি। এমনকী এনামুল হক গরু পাচার মামলার তদন্তে সব রকম সাহায্য করছে। করবেও। এই শর্তে জামিন দেওয়া হোক। পাল্টা সিবিআইয়ের আইনজীবীরা বলেন, এই মূহুর্তে এনামুলকে জামিনে ছাড়া হলে মামলার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। কারণ, এনামুল যথেষ্ট প্রভাবশালী জামিনে ছাড়া পেলে মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করবে। প্রমাণ লোপাট করবে। এই দাবির পাশাপাশি সিবিআইয়ের তরফে বিচারকের কাছে একটি ডায়েরি পেশ করা হয়। যে ডায়েরি তল্লাশির সময় এনামুল হকের বাড়ি ফিরে পাওয়া গেছে। তাতে একাধিক প্রভাবশালীত্ব ব্যক্তিদের নাম আছে। যাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিত এনামুল। কোটি কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা আছে এই ডায়েরিতে। সিবিআইয়ের আইনজীবী ডায়েরিতে লেখা প্রকাশ্য এজলাসে জানাতে চাননি। তিনি বিচারকের কাছে গোপনে বলার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে, সেই ডায়েরি জমা দিতে বলেন। একইভাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী বিচারককে বলেন, জেরার সময় এনামুল হক সিবিআইয়ের অফিসারদের হুমকি দিয়েছে। এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। পাশাপাশি তাকে জেলে পাঠানো হোক।

- Advertisement -

এইভাবে দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিকালে বিচারক এনামুল হকের জামিন নাকচ করে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হাজতের নির্দেশ দেন। বিচারক বলেছেন, সেদিন এনামুল হককে আবার এজলাসে আনতে হবে। এরপর এনামুলকে আদালত থেকে আসানসোল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ২৪ ডিসেম্বর ৫ দিনের সিবিআই রিমান্ড শেষে আসানসোলের সিবিআই আদালতে এনামুলকে তোলা হয়েছিল। সেদিন আদাালতে ঢোকার মুখে মেজাজ হারিয়ে উত্তেজিত হয়ে এনামূল হক সিবিআই অফিসারদের হুমকি দিয়েছিল। যদিও সেদিন এনামূলকে সিবিআই আদালতে তোলা হলেও শুনানি হয়নি। আসানসোল আদালতের এক আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে শুনানি স্থগিত করে ৩০ ডিসেম্বর আবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য্য করেছিলেন সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়।