কয়লা পাচার কাণ্ডে তল্লাশি অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ও সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা

98

কলকাতা: কয়লা ও গোরু পাচার কাণ্ডে হদিশ পেতে শুক্রবার সকাল থেকেই ব্যাপক তল্লাশি অভিযানে নামে সিবিআই ও এনফর্সমেন্ট ডাইরেকটোরেট এর অফিসারেরা। এদিন একদিকে যেমন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা সকাল ৯টায় গিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন কলকাতার দক্ষিণ শহরতলীর বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিত বাঘোয়াজ নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে। সেখানে তল্লাশি চালানোর পর তাঁরা গিয়ে হাজির হন মধ্য কলকাতার বড় বাজারে অবস্থিত ওই ব্যবসায়ীর গদিতে। সেখানেও তাঁরা তল্লাশি চালান। ওই ব্যবসায়ীর গদি ছাড়াও আশপাশের আরও কয়েকটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান তাঁরা হানা দেয়।

প্রসঙ্গত, লালা ঘনিষ্ঠ গণেশ বাগড়িয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে ইতিপূর্বেই সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিলেন। এরপর ওই ব্যবসায়ী ভারতীয় ফৌজদারি বৃদ্ধির ১৬৪ ধারায় আদালতে তাঁর জবানবন্দি নথিভূক্ত করেছিলেন।

- Advertisement -

বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, ওই জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন কয়লা ও গোরু পাচারের কাজ অনুপ মাঝি ওরফে লালা ও এনামুল ইসলাম পরিচালনা করলেও নেপথ্যে থেকে তাদের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজ্যের এক প্রভাবশালী নেতা। শুধু তাই নয় সেইসঙ্গে গণেশ বাগারিয়া তার জবানবন্দিতে আরও জানিয়েছিলেন, কার কার মাধ্যমে ওই গোরু ও কয়লা পাচারের টাকা বিদেশে পাচার করা হত। তেমনি এদেশে কোন কোন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রভাবশালী নেতাটির স্ত্রীর নামে বিদেশে কোন কোন ব্যাংকে নিয়মিত টাকা জমা পড়ত আর সেই টাকা কিভাবে হোটেল ও রিসোর্ট কেনার কাজে লাগানো হয়েছিল। গণেশ বাগারিয়ার ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে এদিন সকালে সিবিআই গোয়েন্দারা বাঁশদ্রোণীর ওই ব্যবসায়ী ডেরায় তল্লাশি চালান।

অপরদিকে, এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টরের পক্ষ থেকে তাদের বিহার ও ওডিষার ইউনিটে কর্মরত অফিসারদের বৃহস্পতিবারই কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। এদিন সকালে ওই গোয়েন্দা অফিসারেরা ১৬টি দলে বিভক্ত হয়ে একদিকে যেমন কলকাতায় বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযানে নামেন তেমনি তাঁরা দুর্গাপুর আসানসোল ও বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন। বর্ধমান ও দুর্গাপুরে যেসব জায়গায় এদিন এনফর্সমেন্ট ডাইরেকটোরেটের অফিসারেরা তল্লাশি অভিযানের নামে সিংহভাগই ছিল সেখানকার বিভিন্ন মলে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সংস্থায়।

এদিন কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট গোয়েন্দারা প্রথমে হানা দেয় মধ্য কলকাতার গনেশ চন্দ্র এভিনিউয়ের একটি সংস্থায়। আপাতদৃষ্টিতে ওই সংস্থাটি পাট ও প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থের ব্যবসায় নিযুক্ত বলে মনে করা হলেও গোয়েন্দাদের ধারণা ওই ব্যবসার অন্তরালে লালা তার কালো টাকা সাদা করার ব্যবসা পেতে বসেছিল।

এনফর্সমেন্টের গোয়েন্দারা সেখানকার কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন তাদের জানান, তাঁরা লালাকে চেনেন এবং তিনি প্রায়ই সেখানে আসতেন। এরপর গোয়েন্দারা ওই সংস্থার আশেপাশের কয়েকটি সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে বেরিয়ে যান বড় বাজারের দিকে।

সিবিআই ও এনফর্সমেন্ট ডাইরেক্টোরেট সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যায়, এ পর্যন্ত তাঁরা যা তথ্য সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছেন সে অনুসারে গোরু ও কয়লা পাচারে প্রায় আড়াই হাজার কোটিরও বেশি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। সেই টাকা কার কার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে সেটাই বার করতে তাদের কাল ঘাম ঝরছে।