মেশিন তৈরি করে কর্মসংস্থানের দিশা দেখাচ্ছেন রায়গঞ্জের অমল

311

রায়গঞ্জ: তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা। দারিদ্রের কারণে পরে আর পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। ন’বছর বয়সে আট ভাই-বোনের সংসার টানতে মাসিক ৩০ টাকার বেতনে সাইকেল মেকারের কাজ নিতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ ১২ বছর সাইকেল মেকারের কাজ করার পর গ্রিল ফ্যাক্টরিতে কাজে ঢুকিয়ে দেন বাবা। সেখানে গ্রিল বানানোর পাশাপাশি পাম্প মেশিন মেরামতের কাজ আয়ত্ত করেন রায়গঞ্জের তাহেরপুরের বাসিন্দা অমল দাস। এরপর বাড়িতে বল-বিয়ারিং দিয়ে নতুন নতুন চলমান খেলনা বানাতে শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে গ্রিল মিস্ত্রি অমলবাবু নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের মেশিন তৈরি করতে থাকেন। তাঁর তৈরি চানাচুর, খুরমা, মদন কটকটি, ঝুড়ি বানানোর মেশিন গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। বহু বেকার ছেলে অমলবাবুর হাতে তৈরি মেশিন বাড়িতে বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমানে অমলবাবুর পরিচিতি গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। বরাত মতো একের পর এক মেশিন তৈরি করে চলেছেন তিনি।

৫৬ বছরের অমল দাস কখনও ভাবেননি যে একদিন তাঁর হাতের তৈরি মেশিন দিয়ে এত মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অমলবাবু বলেন, ‘একসময় অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তবুও যখন দেখি আমার তৈরি মেশিন দিয়ে লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে তখন ভালো লাগে।’

- Advertisement -