সাড়ে তিনদিনেই ইংল্যান্ডের লড়াই শেষ

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : আবারও কামব্যাক।

প্রথম ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রবলভাবে ফিরে আসা। চিপকে গত সপ্তাহে ভারতের বিপর্যয় অবাক করেছিল ক্রিকেটমহলকে। সমালোচনায় বিদ্ধ হন বিরাটরা। বিপর্যয়ের মঞ্চেই সোমবার দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। সাড়ে তিনদিনে ভারতের ৩১৭ রানের বিশাল জয়ে উধাও সব হতাশা, সমালোচনা।

- Advertisement -

তৃতীয় দিনে গতকালই জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। সিরিজ ১-১ হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষামাত্র। জো রুটরা কতক্ষণ ঠেকিয়ে রাখবেন রবিচন্দ্রন অশ্বীন-অক্ষর প্যাটেলদের, সেটাই ছিল মূল প্রশ্ন। কিন্তু পর্বতে মুষিকপ্রসব থ্রি লায়ন্সের। ৪৮২-র টার্গেটে খেলতে নেমে ১৬৪-তেই শেষ ইংল্যান্ডের সব জারিজুরি!

প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরই প্রমাদ গুনছিল ইংল্যান্ড। পিচ নিয়ে হইচই বাঁধিয়ে দেন মাইকেল ভনরা। কিন্তু টার্নিং পিচে খেলার জন্য যে টেকনিক, টেম্পারামেন্ট দরকার, সে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। স্টোকস-বার্নসরা তো বুঝেই উঠতে পারেননি। নিটফল, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রানের নিরিখে বৃহত্তম জয়ে সিরিজ ১-১ ভারতের। ঢোক গিলতে বাধ্য হয়েছেন মাইকেল ভন। লিখেছেন, শেষ জুটিতে ৩৮, যা ইংল্যান্ড ইনিংসের সর্বোচ্চ! ৩১৭ রানে হারটা একটু বেশিই হয়ে গেল। ওয়েল প্লেড ইন্ডিয়া। কেভিন পিটারসনের হিন্দি টুইট, বাধাই হো ভারত, ইংল্যান্ডকে হারানোর জন্য।

২৪ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় টেস্ট। পিঙ্ক বলে দিনরাতের লড়াই। ইংল্যান্ডের স্বপ্নের ফানুশ উড়িয়ে মনস্তাত্বিক অ্যাডভান্টেজ বিরাট ব্রিগেডের। ম্যাচে ৮ উইকেট ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ম্যাচের সেরা রবিচন্দ্রন অশ্বীন। সহ নায়ক অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা অক্ষর প্যাটেল। যাঁর নামের পাশে নবম ভারতীয় বোলার হিসেবে অভিষেক ম্যাচেই ইনিংসে ৫ উইকেটের নজির। অক্ষর বলেন, জীবনের বিশেষ দিন। প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরছিল। গতিতে বৈচিত্র্য এনে, ব্যাটসম্যানদের ভুলের জন্য অপেক্ষায় থেকেছি। তারই সুফল পেলাম।

৪৮২ অসম্ভব টার্গেট। কিন্তু ১৬৪-তে গুটিয়ে যাওয়ার কোনও অজুহাত বোধহয় নেই ইংল্যান্ডেরও। অশ্বীন-অক্ষরদের দক্ষতা এবং স্টোকসদের স্পিনের বিরুদ্ধে শিক্ষানবিশ ব্যাটিং- তফাত বেশ পরিষ্কার। যেপিচে রোহিত শর্মা ১৬১, অশ্বীন ১০৬ করেছে, সেখানেই দল বেঁধে দুই ইনিংসে রুটদের সংগ্রহ মাত্র ২৯৮! ব্যর্থতার ধাক্কায় এশিয়ার মাটিতে রুট ব্রিগেডের টানা হাফডজন টেস্ট জয়ে ব্রেক লাগাতে খুব বেশি ঘাম ঝরাতে হয়নি ভারতকে।

মাঠে বসে প্রিয় দলের ঝলমলে জয়। প্রাপ্তি দর্শকদেরও। খুশিটা দ্বিগুণ বিরাটদেরও। অশ্বীন বলেও দিলেন, এই জয়টা তিনি দর্শকদের উৎসর্গ করছেন। জয়ে কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দর্শকদের উপস্থিতির কথাও শোনালেন ক্যাপটেন কোহলি। অতি উচ্ছ্বাসের ফল, গতকাল অবশ্য লাঞ্চ ব্রেকের সময় এক তরুণ দর্শক রেলিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়েন। একটাই স্বস্তি, কোনও ক্রিকেটারের সংস্পর্শে আসতে পারেননি।

প্রায় ২ বছর পর টেস্ট খেলা কুলদীপের গলায় দলগত ঐক্যের সুর, অক্ষর ও অশ্বীন দারুণ বল করেছে। আমার কাজ ছিল চাপটা বজায় রাখা। দীর্ঘদিন পর টেস্ট খেললাম। মনে হচ্ছিল অভিষেক ম্যাচ। তবে অনুশীলনে নিজেকে তৈরি রেখেছি। অ্যাশ ভাইয়ে সঙ্গে নিজের বোলিং নিয়ে আলোচনা করি। প্রচুর টিপসও পাই।

গতকালের ৫৩/৩ থেকে আজ ৩৫.২ ওভারেই শেষ ইংল্যান্ডের। লাঞ্চের পরপরই স্বস্তির জয়। আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। যার হাত ধরে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা দুইয়ে ঢুকে পড়া ভারতের। নিউজিল্যান্ডের (৭০.০) ঠিক পিছনে বিরাটরা (৬৯.৭)। ইংল্যান্ড একধাক্কায় শীর্ষ থেকে চারে (৬৭.০)। ভারত যদি সিরিজ অমীমাংসিত রাখতে পারে বা জেতে, তাহলে ১৮ জুন লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই চার শিকার। লরেন্সকে (২৮) ফিরিয়ে শুরুটা অশ্বীনের। গতকাল বারবার ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে খেলছিলেন। স্পিনের মোকাবিলায় স্ট্র্যাটেজি। এদিন তা করতে গিয়ে স্টাম্প। অশ্বীনের পরের শিকার বেন স্টোকস (৮)। এনিয়ে দশমবার। লাঞ্চের আগে ওলি পোপ, বেন ফোকসও ফিরে যান ব্যর্থতার তালিকা বাড়িয়ে লাঞ্চের পর রুট (৩৩) ভারতের অপেক্ষা দীর্ঘ করেননি।

পারিবারিক কারণে দেশে ফেরার আগে এদিন ১৮ বলে ৪৩ রানের একটা ঝোড়ো ইনিংস মইন আলি খেলেন। অক্ষরকে (৫/৬০) টানা তিন বলে ছক্কাও হাঁকান। তাতে হারের ব্যবধান কিছুটা কমে মাত্র। পিচ-বিতর্ক সরিয়ে রুটও স্বীকার করে নেন, তিন বিভাগেই আমাদের টেক্কা দিয়েছে ভারত। ম্যাচটা আমাদের জন্য বড়ো শিক্ষা।