পিকনিক বন্ধ করতে বনকর্মীদের পাশে পরিবেশপ্রেমীরা

193

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাস সহ শিয়ালমণি ও মণিপাড়া ফরেস্টে পিকনিক বন্ধ করার জন্য শুক্রবার থেকে বনকর্মী ও পুলিশকর্মীদের পাশে দাঁড়াল পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। পিকনিক পার্টি এখানে পিকনিক করতে আসলে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেবে তাঁরা। করোনা পরিস্থিতির জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয় বনবিভাগ। এদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১২টি পিকনিক পার্টি তাঁরা ফিরিয়ে দেন। করোনা পরিস্থিতি থাকলেও ডিসেম্বর পড়তেই রায়গঞ্জের শিয়ালমণি  জঙ্গলে পিকনিকে মেতে উঠেছিল যুবক-যুবতীরা। খাবার, মাংসের হাড়, প্লাস্টিকের নানা প্যাকেট এবং মদের বোতলে পরিবেশ দূষিত হয়ে ওঠে। গত ২২ ডিসেম্বর উত্তরবঙ্গ সংবাদে শিয়ালমণি ফরেস্টের বেহাল অবস্থার চিত্র ফুটে উঠতেই রায়গঞ্জ বনবিভাগ শিয়ালমণি ফরেস্টে পিকনিক নিষিদ্ধ করে।

পাশাপাশি, ফরেস্টে ঢোকার রাস্তা বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। বনবিভাগের উদ্যোগকে সফল করতে গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কুলিক পক্ষীনিবাসে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে বনবিভাগের আধিকারিক প্রমিলা লামা। সিদ্ধান্ত হয় ২৫ ডিসেম্বর  থেকে পুরো জানুয়ারি মাস কুলিক পক্ষীনিবাস সহ মণিপাড়া ও শিয়ালমণি ফরেস্টে পাহাড়া দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশপ্রেমি সংগঠনগুলির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। গত তিন বছর আগে বনবিভাগ কুলিক পক্ষীনিবাস ও মণিপাড়া এলাকায় পিকনিক নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকে প্রতিবছর ঠাণ্ডা পড়তেই সাধারণ মানুষ কুলিক পক্ষীনিবাস সংলগ্ন শিয়ালমণি ফরেস্টে পিকনিক করতে যায় সাধারণ মানুষ। পিকনিক পার্টির ফেলে রাখা সামগ্রীতে শিয়ালমণি ফরেস্ট দূষিত হয়ে ওঠে।

- Advertisement -

এনিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়ায়। বড়দিনে যাতে সেখানে পিকনিক পার্টির ঢল না নামে সেজন্য বনবিভাগ মঙ্গলবার থেকে পিকনিক নিষিদ্ধ করে। এদিন কুলিক পক্ষীনিবাস সহ আশপাশের এলাকায় কাউকেই পিকনিক করতে দেখা যায়নি। বনকর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা এদিন দিনভর পাহাড়া দিয়েছে পিকনিক স্পটগুলিতে। শিয়ালমণি ফরেস্টে ঢুকতেই দেখা গেল উত্তর দিনাজপুর পিপলস ফর অ্যানিম্যালস, মুক্তির কাণ্ডারি, এইচএমটিএ সহ একাধিক সংগঠনের সদস্যরা পাহাড়ায় বসেছেন।

অধ্যাপক সুকুমার বাড়ুই জানান, পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের কর্তব্য। কুলিক পক্ষীনিবাসের সংলগ্ন শিয়ালমণি ফরেস্ট যেভাবে দূষিত করে তোলা হচ্ছে তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই জঙ্গলকে বাঁচাতে এবং পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সরকারের উপর সবকিছু ছেড়ে দিলে হবে না। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে পিকনিক স্পটগুলি পাহাড়া দিয়েছি। প্রায় ১২টি পিকনিক পার্টি এসেছিল। তাদের বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পাহাড়া দেওয়া হবে।‘ বনকর্মী বিশু মুর্মু  বলেন, ‘ফরেস্টের ভিতরে পিকনিক করলে পরিবেশ দূষিত হবে। মানুষ জেনে শুনেও ফরেস্টের ভিতর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখেন না। তাই ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ মত আজ থেকে আমরা পাহাড়ায় বসেছি। পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি আছে আমাদের সঙ্গে।‘