আত্রেয়ী থেকে প্রতিমার কাঠামো তুলবেন পরিবেশবিদরা

পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট : মহানন্দা, কুলিকের মতো আত্রেয়ী নদীতেও ছড়াচ্ছে দূষণ। সরস্বতীপুজোর পর যত্রতত্র প্রতিমার কাঠামো পড়ে থাকতে দেখা গেল। শনিবার এর ফলে যেমন নদী দূষণ ঘটছে, তেমনি নদীঘাটের পরিবেশও ক্রমশ দুবির্ষহ হয়ে উঠছে। যার জেরে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছে শহরের পরিবেশপ্রেমীরা। প্রশাসনের তরফে যদিও ওই কাঠামো তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শিক্ষক তুষারকান্তি দত্ত বলেন, নদী না বাঁচলে আমরাও বাঁচব না। জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল রিভার পাম্প সেচের অন্তর্ভুক্ত। এই অবস্থায় নদীতে প্রতিমা বিসর্জন কতটা অনভিপ্রেত, এই উত্তর ছাত্রছাত্রীদেরই খুঁজতে হবে। কারণ, নাব্যতা কমছে নদীর। রাসায়নিক পদার্থ কমিয়ে দিচ্ছে জৈববৈচিত্র‌্য। বিলুপ্ত হচ্ছে নদীয়ালি মাছ। আগামীতে যুদ্ধ হবে শুধু মাত্র জল নিয়ে। ইতিমধ্যে নদী অববাহিকাকে কেন্দ্র করে দেশে দেশে শুরু হয়েছে নতুন জিও পলিটিক্স। একে তো আত্রেয়ীর সঙ্গে তিস্তার সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বহুকাল। তার উপরে ২০১২ সালে বাংলাদেশে নবনির্মিত রাবার ড্যাম জেলাবাসীর গভীর উদ্বেগের।

- Advertisement -

রাজ্য নদী বাঁচাও কমিটির আহ্বায়ক তুহিনশুভ্র মণ্ডল বলেন, সরস্বতীপুজোর পর প্রতিমা তোলার বিষয়ে সচেতনতার অভাব দেখা যায়। আত্রেয়ী নদীর বুক থেকে প্রতিমা বিসর্জনজনিত দূষণের সমস্যা মেটাতে আমরা ২০১০ সাল থেকে কাঠামো তোলার কাজ শুরু করি। কারণ, প্রতিমার রং-এ যে সিসো, ক্রোমিয়াম, ল্যাকার ইত্যাদি থাকে তা জল দূষণ ঘটায়। শুক্রবার বিসর্জন হয়েছে, শনিবার পর্যন্ত দেখব। কেননা আজও বেশ কিছু প্রতিমা আত্রেয়ীতে বিসর্জন দেওয়া হবে। রবিবার সকালে বিশ্ব জলাভূমি দিবস সম্পর্কে সচেতনতার বার্তা দেব এবং জল থেকে সরস্বতী পুজোর প্রতিমার কাঠামো তুলব।

পরিবেশ সচেতন পুজো উদ্যোক্তা প্রদীপকুমার সাহা বলেন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে তত্ত্বগতভাবে আমার জ্ঞান সামান্যই। তবে এইটুকু বুঝি নদী ও পরিবেশ না বাঁচলে আমাদেরও অস্তিত্ব থাকবে না। এর জন্য নদীকে পরিষ্কার রাখা একান্ত জরুরি এবং এই দায়িত্ব আমাদের সকলেরই। মূলত আমি একজন রক্তদান আন্দোলন কর্মী। তার খাতিরেই বুঝেছি নদী, গাছ, পরিবেশ সুস্থ না থাকলে রক্তদান আন্দোলন এবং অন্য সামাজিক অধিকারের আন্দোলন সফলতার মুখ দেখবে না। তাই আর বলার বা ভাবার সময় নেই। এখন সঠিকভাবে কাজ করার সময়। সরস্বতীপুজোর অনেক উদ্যোক্তাকে দেখছি কাঠামো সহ মূর্তি নদীতে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে । তারপর কাঠামোটা নদীতে পড়েই থাকছে। আমি এই বছর সরস্বতীপুজো করে প্রতিমা নদীতে বিসর্জন দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তুলে নিয়েছি। যাতে নদী দূষণ কিছুটা হলেও রোধ হয়।

নদী থেকে কাঠামো তুলে নেওয়ার বিষয়ে মহকুমাশাসক তথা বালুরঘাট পুরসভার বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের চেয়ারপার্সন বিশ্বরঞ্জন মুখোপাধ্যায় জানান, বালুরঘাটের সমস্ত সরস্বতীপূজার প্রতিমা বিসর্জন এখনো পর্যন্ত হয়নি। আমরা অপেক্ষা করছি সমস্ত সরস্বতী প্রতিমা বিসর্জন হোক। শনি ও রবিবারের মধ্যে আশা করছি সমস্ত প্রতিমা বিসর্জন হয়ে যাবে। প্রশাসনের তরফে রবিবার সন্ধ্যায় অথবা সোমবার সকালে প্রতিমার মাটি গলে যাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট কর্মী দিয়ে বিভিন্ন পুকুর এবং নদীর ঘাট থেকে বিসর্জিত হওয়া প্রতিমাগুলির কাঠামো তুলে নেওয়া হবে।