হিমুল প্রকল্প এলাকা সমাজবিরোধীদের আখড়া

412

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : প্রতি রাতেই মাটিগাড়ার হিমুল প্রকল্প এলাকা থেকে দামি দামি সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে যন্ত্রাংশ থেকে পাঁচিলের ইট পর্যন্ত রয়েছে। পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে সম্পূর্ণ আগাছায় ঢেকে থাকা দুগ্ধপ্রকল্প এলাকায় সমাজবিরোধীদের ঠেক বসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় থাকা এই প্রকল্প এলাকা থেকে এভাবে দিনের পর দিন চুরি হলেও কর্তৃপক্ষের কোনও নজর নেই বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এস পন্নমবলম বলেন, আমরা দ্রুত মাদার ডেয়ারি কর্তৃপক্ষকে ডেকে সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলব। এভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

মাটিগাড়ার খাপরাইল রোডে হিমুল দুগ্ধপ্রকল্পের বেশ কয়েক একর জমি রয়েছে। এরই মধ্যে হিমুলের দুগ্ধপ্রকল্প চালানোর জন্য প্রচুর দামি দামি মেশিন বসানো রয়েছে, যেখানে দুধের প্রক্রিয়াকরণ থেকে শুরু করে প্যাকেজিং সমস্ত ব্যবস্থা রয়েছে। বাম আমলে অত্যন্ত অলাভজনক অবস্থায় থাকা হিমুল দুগ্ধপ্রকল্পকে অপর সরকারি সংস্থা মাদার ডেয়ারির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর মাদার ডেয়ারি হিমুলের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় থেকেই এই প্রকল্পের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। গত চার বছরে দুধের উৎপাদন যেমন অনেক কমে গিয়েছে তেমনই বাজারে একপ্রকার দুধ ছাড়া অন্য কোনও পণ্য দিতে পারেনি মাদার ডেয়ারি কর্তৃপক্ষ। এমনকি মাটিগাড়ার এই প্রকল্পটি চালানোর জন্য কোনও প্রশাসনিক আধিকারিককেও মাদার ডেয়ারি এখানে বসায়নি। দীর্ঘদিন ধরে মাদার ডেয়ারির কর্তারা এই প্রকল্প এলাকায় আসেননি। বর্তমানে সামান্য পরিমাণ দুধ দক্ষিণবঙ্গ থেকে ট্যাংকারে করে এখানে এনে শুধু প্যাকেটবন্দি করে বাজারে দেওয়া হচ্ছে। ফলে মাটিগাড়ায় হিমুলের জমি এবং কোটি কোটি টাকায় তৈরি প্রকল্পের দিকে কারও কোনও নজর নেই। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, প্রশাসনিক ভবন, কারখানা সহ পুরো প্রকল্প এলাকা আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। প্রত্যেকটি ভবন আগাছার আড়ালে ঢাকা পড়েছে। অফিসের দেওয়াল ফেটে গাছের শিকড় ঘরের ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দু-একজন কর্মী অফিসে বসে রয়েছেন। অনেক ঘরের দরজা, জানলা ভেঙে পড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় জিনিসপত্র ছড়িয়ে -ছিটিয়ে রয়েছে। মাদার ডেয়ারির বোর্ড লাগানো একটি অ্যাম্বাসাডর গাড়িও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। সেখানকার কর্মীরাই বলছেন, প্রতি রাতেই মেশিনপত্র থেকে যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ঘরের দরজা, জানলা, পাঁচিলের ইট এমনকি লোহার আলোকস্তম্ভ, দুধ টানার ট্রলি সহ অন্যান্য জিনিস চুরি হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই পিছন দিয়ে কিছু সমাজবিরোধী এখানে ঢুকছে। এখানে বসে নেশা, জুয়া খেলার পাশাপাশি বাড়ি ফেরার সময় জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের সামনের গেটে নিরাপত্তারক্ষী থাকায় বিনা কারণে কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু পিছন দিয়ে প্রতিদিনই দামি দামি যন্ত্রপাতি চুরি যাচ্ছে। কেন প্রশাসন এই প্রকল্পের দিকে নজর দিচ্ছে না সেই প্রশ্ন উঠছে।

- Advertisement -