ডুডুয়া নদীর ভাঙনে ভিটেমাটিহীন হওয়ার আতঙ্কে এলাকাবাসী

264

শান্ত বর্মন, জটেশ্বর: একদিকে টানা বৃষ্টি অপরদিকে নদী ভাঙন রোধে নেই পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা। দুইয়ের যাতাকলে পরে ভিটেমাটিহীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ফালাকাটা ব্লকের ধনীরামপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ফজলেহাট ও বেলতলি মৌজার বাসিন্দারা।

ভাঙন রোধে নদী বাঁধ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ওই এলাকার কৃষক সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিক প্রশাসন। তা না হলে এলাকার বহু মানুষকেই পথে বসতে হবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সগেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘ডুডুয়া নদী ভাঙনের বিষয়টি অবশ্যই সেচ দপ্তর সহ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নজরে আনব।’

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসের গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের ফজলেহাট এলাকায় ডুডুয়া নদীর ২০০ মিটার বাঁধ নদীর জলে ভেসে যায়। ওই এলাকায় বহু কৃষকের আমন ধানের জমি থাকায় আতঙ্কে ভুগছেন কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, খরস্রোতা ডুডুয়া নদীর ভাঙন এলাকা দিয়ে যে কোনও মুহূর্তেই প্রবেশ করতে পারে। যার ফলে বহু কৃষকের ধানের জমি নদীতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। স্থানীয়রা জানান ফজলেহাট এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িও ভাঙনের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ডুডুয়া নদীর ভাঙনের কবলে পরেছেন ধনীরামপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলতলী এলাকার বাসিন্দারা। সেখানেও দুটি বাড়ি সহ কৃষিজমি ভাঙনের মুখে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বীরেন রায় বলেন, ভাঙনের জেরে আমার চার বিঘা জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন দেখলে ভালো হয়।’ অপর বাসিন্দা মহেশ রায় বলেন, ‘আমার চার বিঘা ধানের জমি এবারই নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। কিভাবে কৃষিকাজ করব বুঝতে পারছি না।’ কার্তিক রাজমল বলেন, ‘আমাদের দুটি পরিবার নদীর পাড়ে রয়েছি। শেষ সম্বল ভিটেমাটি নদীতে তলিয়ে গেলে কোথায় যাব তা বুঝে উঠতে পারছি না।’

যদিও নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি নিয়ে সেচ ও জলপথ বিভাগের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রিয়ম গোস্বামী বলেন, ‘বিষয়টি জানি। ওই এলাকা থেকে আবেদন জমা পরলেই পূজোর পর বিষয়টি দেখা হবে।