ইএসআই হাসপাতালের জমি নিয়ে বিতর্ক, ক্ষতিপূরণ পাননি জমিদাতা, আদালতের নির্দেশ মানেনি রাজ্য 

451

রাজগঞ্জ : একশো কোটি টাকার ইএসআই হাসপাতালের জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসজেডিএ থেকে প্রতি একর ৬৩ লক্ষ টাকা দরে ইএসআইকে জমি দেওয়া হলেও  জমিদাতাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ । ফুলবাড়ি- ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিপুরের এক পরিবার ওই জমির মালিকানা দাবি করে জলপাইগুড়ির হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে মামলা করেছেন। সার্কিট বেঞ্চ থেকে ফুলবাড়ির ওই  ইএসআই হাসাপাতাল তৈরিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে একাধিকবার আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এখনও নির্দেশ অমান্য করেই নির্মাণকাজ চলছে ।  আদালতের নির্দেশ পালন না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ।

ডাবগ্রাম ও বিন্নাগুড়ি মৌজায় স্যাটেলাইট টাউনশিপে প্িরায় ১৪ বিঘা জমিতে ইএসআই হাসপাতাল হচ্ছে। ইএসআই কর্তৃপক্ষকে সেই জমি দেওয়া দিয়েছে এসজেডিএ। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজগঞ্জ ব্লকের ফুলবাড়ি এলাকায় ১৯৬৩ – ৬৪ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ৭৫২ একর জমি অধিগ্রহণ করে । সেই জমি বিভিন্ন দপ্তরকে দেওয়া হয় । কিন্তু জ্যোৎস্নাবিকাশ রায়চৌধুরীর পরিবার ১৯৮২ সালে জলপাইগুড়ি জজ কোর্টে মামলা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, তাদের ১২. ৬৭ একর ( প্রায় ৩৮ বিঘা ) জমি অধিগ্রহণ করা হলেও কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি । ১৯৮৮ সালে জজ কোর্ট থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় । কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ । পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে এই বিষয় নিয়ে মামলা করা হয় । মামলায় রাজ্য সরকার, জমি অধিগ্রহণ দপ্তর, আবাসন দপ্তর, এসজেডিএ এবং জলপাইগুড়ির জেলাশাসককে বিবাদি হিসাবে রাখা হয়। বাদিপক্ষের অভিযোগ, আদালত থেকে ২০০৭ সালে মামলাকারীকে সুদ সহ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই নির্দেশ মানা হয়নি। এরপর কলকাতা হাই কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা হয়। ২০১৫ সালে কলকাতা হাইকোর্টের সিল বেঞ্চে মামলা করা হয়। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, মামলাকারী জমি ফেরত বা ক্ষতিপূরণ যেটা চান, সেটাই দিতে হবে। ওই রায়ও সরকার মানেনি। এদিকে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই এসজেডিএ জমিটি হস্তান্তর করে ইএসআই দপ্তরকে । সম্প্রতি সেই জমিতে হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে । আপাতত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে একশো কোটি টাকা । শুরুর দিন থেকে ওই কাজের বালি ও পাথর সরবরাহের বরাত পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে ঝামেলা লেগে রয়েছে । এবার মালিকানা নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মামলাকারী অরুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘মামলা চলা জমিতে ইএসআই হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় জলপাইগুড়িতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে মামলা করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর সার্কিট বেঞ্চ থেকে হাসপাতালের কাজে স্থিতাবস্থা বজায়  রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশিকার কপি জেলাশাসক, জেলার জমি অধিগ্রহণ দপ্তর, এসজেডিএ এবং আবাসন দপ্তর ও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে । তবুও হাসপাতাল নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে । তিনি বলেন, এর আগে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। আমি জমি ফেরত চাই। সার্কিট বেঞ্চে এই মামলার নিষ্পত্তি না হলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করব।’

- Advertisement -

মামলাকারীর আইনজীবী দেবজিৎ কুণ্ডু বলেন, ‘গত ১২ সেপ্টেম্বর সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় ওই জমিতে কোনো নির্মাণ কাজ না করার জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু তার পরেও সেই জমিতে নির্মাণকাজ হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ মানা না হলে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে ।

এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘যে জমিতে ইএসআই হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে সেই জমিতে কাজের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই । যদি আদালতের নির্দেশ না মানা হয় তাহলে মামলাকারী চাইলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।’

জলপাইগুড়ি স্পেশাল এলএ পিনাকী সেনগুপ্ত বলেন, ‘ওই জমির বিষয়টি নথি না দেখে বলা সম্ভব নয়।’ জলপাইগুড়ির জেলাশাসক অভিষেক মোদী বলেন, ‘ইএসআই হাসপাতালের জমি নিয়ে মামলা হয়েছে কিনা এবং আমাকে পার্টি করা হয়েছে কি না, এছাড়া কেস নম্বর কত- এ ব্যাপারে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তাই এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করব না।’

ছবি- এই জমিতেই ইএসআই হাসপাতালের কাজ চলছে।

তথ্য ও ছবি – রণজিৎ বিশ্বাস