জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শহরের ক্লাব রোডে ইউরোপ এবং ভারতের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলপাইগুড়ি ইউরোপিয়ান ক্লাব গড়ে ওঠে। এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠার পিছনে ইংরেজদের পাশাপাশি চা বাগানের মালিকদের অনেক অবদান ছিল।

বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ১৮৯৮ সালে বিশাল জায়াগাজুড়ে জলপাইগুড়িতে ইউরোপিয়ান ক্লাব গড়ে ওঠে। ১২১ বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানকে হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার এই দাবিকে এখনও মান্যতা দেয়নি। ক্লাব ভবনে ইংরেজ আমলে বল ডান্স, বিলিয়ার্ডস, লন টেনিস সহ অন্য খেলার পরিকাঠামো ছিল। ইংরেজরা ইউরোপিয়ান ক্লাবে এসে বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখতেন। বর্তমানে ওই ভবনটির জরাজীর্ণ দশা। ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি অক্ষত রেখে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালেয়র হেরিটেজ প্রোজেক্টের তরফে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ইউরোপিয়ান ক্লাবকে ঘিরে জলপাইগুড়ির প্রবীণ বাসিন্দাদের মধ্যে নস্টালজিয়া রয়েছে। ইউরোপিযান ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একাধিকবার সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেরিটেজ প্রোজেক্টের প্রাক্তন কোঅর্ডিনেটর তথা ইতিহাসবিদ ডঃ আনন্দগোপাল ঘোষ বলেন, ইংরেজ আমলে আজকের মতো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। তখন জলপাইগুড়ি জেলার অর্থনীতিতে প্রাণভোমরা ছিল চা শিল্প। চা বাগানের ম্যানেজাররা সপ্তাহে একদিন ওই ক্লাবে আসতেন। ঘোড়ার গাড়ি, হাতির পিঠে এবং নৌকায় করে ইংরেজরা জলপাইগুড়িতে আসতেন। ইউরোপিয়ান ক্লাব ভবনটি আমাদের সম্পদ। একে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। ২০১১ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অরুণাভ বসু মজুমদার জলপাইগুড়ি ইউরোপিয়ান ক্লাবকে হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব কবে মান্যতা পায় সেদিকে তাকিয়ে রয়েছি।

জলপাইগুড়ি ইউরোপিয়ান ক্লাব পরিচালন কমিটির সদস্য পীযূষ রাহুত বলেন, ক্লাবের প্রতিটি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। ক্লাব সদস্যরা নিয়মিতভাবে চাঁদা দেন। তবুও আর্থিক অনটন রয়েছে। তাই চাহিদামতো সমস্ত কাজ করা সম্ভব নয়। তবে ইউরোপিয়ান ক্লাবের ভবনকে অক্ষত রাখার পরীক্ষায় আমরা সফল। আমরা আশাবাদী জলপাইগুড়ির প্রাচীন এই ক্লাবের রক্ষণাবেক্ষণের দিকে সরকার নজর দেবে।