কল্লোল মজুমদার, মালদা : শিরশিরে হাওয়া শীতের আমেজ বয়ে আনছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হালকা গরম অনুভূত হচ্ছে। এমন মরশুমে শীতের আগমনি বার্তা পেয়ে পঞ্চানন্দপুরের গঙ্গাবক্ষে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখির দল। জেলার কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চানন্দপুরে গঙ্গাবক্ষে এখন শোনা যেতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিদের কলতান।

বর্তমানে গঙ্গাবক্ষে নতুন নতুন চর জেগে উঠছে। গঙ্গার মাছের লোভে এই সব চরে দেশবিদেশ থেকে উড়ে এসেছে পরিযায়ী পাখির দল। ইতিমধ্যেই ইউরোপ থেকে পাকিস্তান হয়ে পঞ্চানন্দপুরের চরে এসে ভিড় জমিয়েছে কুশিয়া চাহার দল। ইংরেজি নাম পায়েড অ্যাভোকেট। এছাড়া তিব্বত, লাদাখ থেকে উড়ে এসেছে ব্ল্যাক হেডেড, ব্রাউন হেডেড, পাল্লাস গালের দল। ভিড় জমিয়েছে ব্ল্যাক হেডেড আইবিস। দেশবিদেশ থেকে উড়ে এসেছে লং লেগড্ বাজার্ড সহ নানা ধরনের শিকারি পাখিও। তবে এখনও পর্যন্ত পরিযায়ী  হাঁসেদের দেখা মেলেনি। রবিবার পাখি দেখতে পঞ্চানন্দপুরে গিয়েছিলেন মালদা ওয়াইল্ডলাইফ ওয়েফেয়ার সোসাইটির সদস্যরা। তাঁরা জানান, মালদা জেলায় দুটি ইম্পর্টেন্ট বার্ড এরিয়া অর্থাৎ আইবিএ রয়েছে। একটি হবিবপুরের নয়াবাঁধ, অন্যটি পঞ্চানন্দপুর থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত, যাকে বলা হয় ফরাক্কা আইবিএ। সংগঠনের পক্ষে তাপস কুণ্ডু বলেন, যতদিন যাচ্ছে ততই সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে পঞ্চানন্দপুর। ভারতের যে কোনো আইবিএকে টেক্কা দিতে তৈরি পঞ্চানন্দপুর। কিন্তু শুধুমাত্র উদ্যোগের অভাবে লাইমলাইটে উঠে আসছে না এই এলাকা।

- Advertisement -

আরেক সদস্য সুদীপ্ত মানি বলেন, সব থেকে বড়ো বিষয় এই এলাকায় বনদপ্তরের নজরদারি নেই। সম্ভবত কোনো তথ্যও নেই। ফলে শীতকালে পাখি শিকারিরা অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সচেতনতার কাজ করে আসছি এলাকায়। তবুও মাংসের লোভে রাতের অন্ধকারে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পাখি শিকার চলছে। সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে পাখি শিকার বন্ধ করা যাবে না। কিশোর বণিক নামে এক ফটোগ্রাফার জানান, প্রতি বছর এই এলাকায় এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত, ইউরোপ, এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে পরিযায়ী পাখির দল এসে ভিড় জমায়। এবার শীতের শুরুতেই ওরা আসতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে, এই শীতে পাখির পরিমাণ ও প্রজাতি অনেকটাই বেশি হবে। প্রবীর কুণ্ডু, সুব্রত দাসদের দাবি, রবিবার আমরা পেয়েছি চব্বিশটি পায়েড অ্যাভোকেট বা কুশিয়া চাহার দল। গত বছর দেখা গিয়েছিল চারটি। কিন্তু এবার সংখ্যায় অনেকটাই বেশি।