প্রয়াণের পরও সকলের কাছে ‘হেডস্যার’ হরিমোহন বর্মন

156

রাঙ্গালিবাজনা: ১৯৫১ সালে রাঙ্গালিবাজনা মোহনসিং হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছিলেন হরিমোহন বর্মন। ১৯৫৪ সালে প্রধান শিক্ষকের পদে বসেন তিনি। ৪২ বছরের কর্মজীবনে ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই কারণে এলাকায় তিনি হেডমাস্টারমশাই নামেই পরিচিত। অবসরের পরও স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। আজ প্রথমবার শিক্ষক দিবসে অনুপস্থিত তিনি। তবে, আজও হেডমাস্টারের পাড়া বলতে সকলে পশ্চিম খয়েরবাড়ির বর্মনপাড়াকেই বোঝেন।

রাঙ্গালিবাজনা মোহনসিং হাইস্কুলের আরেক প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আশিস কুমার পঞ্চানন বলেন, ‘হেডস্যারের প্রয়াণ একটা বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। আমি তাঁর সহকর্মী ছিলাম। কিন্তু আগাগোড়াই তাঁকে আমার শিক্ষক হিসেবেই দেখেছি।‘ ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক অমল রায় বলেন, ‘আমি হেডস্যারের ছাত্র ছিলাম। দু’বছর আগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়েছি। প্রায়ই হেডস্যারের কাছে ছুটে গিয়েছি পরামর্শ নিতে। তিনি আমৃত্যু শেখানোর কাজ করে গিয়েছেন।‘

- Advertisement -

শিক্ষক ছাড়াও হরিমোহনবাবু ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। ২০১৮ সালে রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির তরফে রাজবংশী ভাষা সম্মাননা পুরস্কার পান তিনি। এছাড়াও কামতারত্ন পুরস্কার পেয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, রাজবংশী ভাষা ও সম্প্রদায়ের ইতিহাস বিষয়ে একজন গবেষক ছিলেন তিনি। তাঁর লেখা বইগুলির মধ্যে ‘কামতাপুরী ভাষা’, ‘কামতাপুর রাজ্যের কাহিনী’ প্রশংসা পেয়েছে। অন্যান্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে ‘সেচায় সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ’, ‘তমরা আর হামেরা’, ‘উত্তরবঙ্গে কামতাপুর রাজ্য কতদূর যুক্তিগ্রাহ্য’, ‘সাতাইশা মাঘের কাহিনী’ প্রভৃতি। তিনি সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘ ১৮ বছর।