আট ঘণ্টা অপেক্ষার পরেও মিলল না মাতৃযান

466

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: রাজ্য সরকার প্রসূতিদের জন্য নিখরচায় রোগী নিয়ে আসা এবং বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা চালু থাকলেও টানা আট  ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলল না মাতৃযান। ঘটনাটি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। সরকারি ওই মাতৃযান না মিললেও হাসপাতাল চত্বরে থাকা বেশকিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ওই রোগীর পরিবারকে মোটা টাকার বিনিময়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বারবার আসতে থাকে। তারা কেউ দুই হাজার কেউ আবার তিন হাজার টাকা দাবি করে রোগীকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। অথচ ১০২ নম্বরে ফোন করে দিনভর সদ্যোজাত সন্তান এবং স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরেই কাটাতে হয়েছে রোগীর স্বামী ও পরিজনদের।

সদ্যোজাতর বাবা বিপ্লব দেবশর্মা বলেন, “সকাল ৬টা থেকে ১০২ নম্বরে ফোন করে চলেছি। কিন্তু দুপুর দু’টোর পরেও মাতৃযান আসেনি। দীর্ঘক্ষন বাইরে অপেক্ষার পর সংবাদমাধ্যমের নজরে বিষয়টি আসতেই ১০২ নম্বরের অ্যাম্বুলেন্স দিতে উদ্যোগী হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।” কেন এই ধরনের অবহেলা!

- Advertisement -

হেমতাবাদের নওদা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালনের বাসিন্দা গৃহবধূ মামুলি সরকার (দেবশর্মা) স্বামী বিপ্লব দেবশর্মা পেশায় গরিব চাষি। তার স্ত্রীর কন্যা সন্তান প্রসবের পর তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় হন্যে হয়ে দিনভর হয়রানির শিকার হন। প্রশাসনিক স্তরে অনেক ছোটাছুটি করেও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমের নজরে আসতেই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। এই প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, “১০২ অ্যাম্বুলেন্স আমরা মেইনটেইন করিনা। রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন থেকে মেইনটেন হয়। যা বলার ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বলবে।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিক মণ্ডল বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে শুধুই হেমতাবাদের এই বাসিন্দার ক্ষেত্রেই নয়, এমনটা প্রায় নিত্যদিনেরই ঘটনা হাসপাতাল চত্বরে। মাতৃযান থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধরনের প্রসব হওয়ার পর সদ্যোজাত সন্তান এবং মাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেসরকারি কিছু অ্যাম্বুলেন্স কার্যত বাধ্য করে পরিবারের লোকেদের মোটা টাকার বিনিময়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে। অথচ নিখরচায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি বরাদ্দ রয়েছে এবং একগুচ্ছ অ্যাম্বুলেন্সও হাসপাতালে রয়েছে। এর পিছনেও যে একটা বড়সড় দালালচক্র রয়েছে সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দিকে ট্রলিম্যান থেকে আয়ারাজ এসব তো চলছেই, এছাড়া প্রসূতি বিভাগে ঢুকে সেখানে ছেলে সন্তান হলে মোটা অঙ্কের টাকা এবং মেয়ে সন্তান হলেও বড়সড়ো অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটা চক্র তো রয়েছেই অভিভাবকদের কাছ থেকে। এরপরেও সন্তান প্রসবের পর যখন তারা রোগী এবং সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, তার জন্য যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেই পরিষেবাটুকু থেকেও বঞ্চিত করছে একটি চক্র। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই চক্র নতুন নয়, দালালচক্র কারীদের হাত এতটাই লম্বা যে এর পিছনে মদত রয়েছে স্থানীয় বেশকিছু প্রভাবশালীর। ফলে এই ভোগান্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।