লকডাউনেও জুয়া ও মদের ঠেক বসছে আমবাগানে

384

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: লকডাউনেও আমবাগানে বাইরের লোকের আড্ডা বসছে। এই নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পারাপাতলাখাওয়া গ্রামে। স্থানীয় গোপাল সরকারের ১৬ বিঘা জমির আমবাগানে নিয়মিত জুয়া ও মদের ঠেক বসছে বলে অভিযোগ। সেই বাগানে যত্রতত্র পড়ে রয়েছে মদের বোতল। দুষিত হচ্ছে এলাকার সামাজিক পরিবেশ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ অবশ্য এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, লকডাউনের সুযোগে প্রতিদিন সকাল থেকেই ওই আমবাগানে জড়ো হয় আশপাশ এলাকার কিশোর, যুবকেরা। সাইকেল বা বাইকে চেপে চলে আসে আমবাগানে। দিনভর হইচই, আড্ডা চলতে থাকে। স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে জুয়া খেলাও চলে। সন্ধ্যার দিকে শুরু হয় মদের আসর। সম্প্রতি মদের দোকান খুলে যাওয়ায় মদ্যপায়ীদের বাড়বাড়ন্ত অনেকটাই। বাগানে যেখানে সেখানে পড়ে রয়েছে বিলেতি মদ ও জলের বোতল। কিছু বোতল ভেঙেও রয়েছে। লাগামহীনভাবে চলছে এই অসামাজিক কাজ। এই জুয়া ও মদের ঠেক থেকে যেকোনও সময় বড় ধরণের ঝামেলা হতে পারে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আবার অচেনা লোকের আনাগোনায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়েও আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

- Advertisement -

এই আমবাগানের পাশেই বাড়ি এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য কমলেশ্বর বর্মনের। তিনি বলেন, ‘সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাইরের এলাকা থেকেও এই আমবাগানে লোকজন আসছে। বাধা দিলেও আমাদের কারুর কথা শুনছে না। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।’ আমবাগানের মালিক গোপাল সরকার বলেন, ‘এবার এমনিতেই আমের ফলন নষ্ট হয়েছে। বাগান পরিচর্যার টাকাও উঠবে না। তারমধ্যে রোজ এভাবে বাগানের মধ্যে মদ্যপ ও জুয়ারিদের উৎপাত চলছে। প্রতিদিন বাগান থেকে মদের বোতল সরাতে হচ্ছে।’ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা সুমিতা ভৌমিক সরকার বলেন, ‘এভাবে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। ওই আমবাগান চত্বরে পুলিশের নজরদারি প্রয়োজন।’ ঠিকানা ও আমবাগান মালিকের পরিচয় জেনে নিয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ওসি তাপস হোড় বলেন’ বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। এব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে।’