দেশে রোজ দুই লক্ষর বেশি সংক্রামিত হচ্ছেন, উদ্বেগ গবেষণায়

885

নয়াদিল্লি : প্রায় এক সপ্তাহজুড়ে দৈনিক সংক্রমণ লক্ষের কাছাকাছি থাকার পর মঙ্গলবার ৯০ হাজারের নীচে নামল বটে, কিন্তু উদ্বেগ কমল না। বরং দুশ্চিন্তা বাড়াল সাম্প্রতিক একটি গবেষণালব্ধ তথ্য। ওই একটি গবেষণা অনুযায়ী ভারতে প্রকৃতপক্ষে রোজ ২ থেকে আড়াই লক্ষ মানুষ করোনা সংক্রামিত হচ্ছেন। সংক্রামিতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে অনেক কমিয়ে দেখানো হচ্ছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজির (এমআইটি) অধ্যাপক হাজহির রহমানদাদ, জন স্টেরমান ও পিএইচডি গবেষক সে ইয়াং লিমের ডায়নামিক এপিডেমোলজিকাল মডেল অনুযায়ী, খুব শীঘ্র করোনার কোনও টিকা বা ওষুধ আবিষ্কৃত না হলে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই দেশে দৈনিক সংক্রামিতের সংখ্যা সেক্ষেত্রে প্রায় ৩ লক্ষ হয়ে যেতে পারে। সাধারণভাবে যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে, তা দিয়ে সব করোনা সংক্রমণ ধরা যাচ্ছে না বলে ওই গবেষণায় ধরা পড়েছে। সংক্রামিত হওয়া সত্ত্বেও অনেকের রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে। আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় তুলনায় অনেক নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণ করা যাচ্ছে। গবেষকরা দেখেছেন, দিল্লিতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ৫ শতাংশ করোনা পজিটিভ পাওয়া গেলেও পিসিআর পরীক্ষায় ওই হার হয়ে গিয়েছে ১৪ শতাংশ। মহারাষ্ট্রে অ্যান্টিজেন ও পিসিআর পরীক্ষায় শনাক্তকরণের হার যথাক্রমে ১০ শতাংশ ও ২৪ শতাংশ।

সর্বভারতীয়স্তরে অ্যান্টিজেন ও পিসিআর পরীক্ষায় শনাক্তকরণের হার যথাক্রমে ৭ শতাংশ ও ৯ শতাংশ হলেও ঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে পরীক্ষা হলে শনাক্তকরণের হার ১৪ শতাংশ ও ১৭.৫ শতাংশ হত বলে ওই মডেলে গবেষকরা দেখিয়েছেন। তাঁদের মতে, গত কয়েকদিন যে ১ লক্ষের কাছাকাছি দৈনিক সংক্রামিত দেখানো হচ্ছে, সেই সংখ্যাটা প্রকৃতপক্ষে হবে ২ থেকে আড়াই লক্ষ। রচনা কুচারিয়ার মতো বিশেষজ্ঞের মতে, তুলনায় কম নির্ভরযোগ্য র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে ভারতে করোনা শনাক্তকরণ হচ্ছে বলেই প্রকৃত চিত্রটা জানা যাচ্ছে না। ওই বিশেষজ্ঞদের বত্তব্য, ভারত ইতিমধ্যে সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সকলের অগোচরে। গত জুলাই মাসে এমআইটি-র গবেষকরা সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রতিষেধক তৈরি না হলে ২০২১ সালের জানুয়ারি নাগাদ ভারতে দৈনিক ২.৮৭ লক্ষ মানুষ করোনা সংক্রামিত হবেন। গত পর পর পাঁচদিন দেশে দৈনিক করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা ৯০ হাজারের ওপর ছিল। মঙ্গলবার সংখ্যাটা ছিল আশি হাজারের বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৮৩,৮০৯ জন সংক্রামিত হয়েছেন। ভারতে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট সংক্রামিতের সংখ্যা ৪৯,৩০,২৩৬।

- Advertisement -

দেশের তিনটি রাজ্য, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটক  দৈনিক সংক্রামিতের সংখ্যায় অন্য রাজ্যগুলির চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় একটু কমের দিকে। উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লিতেও সংক্রমণ অন্য দিনের তুলনায় কমেছে। বিহারে কিছুটা বাড়লেও পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাটা একই রয়েছে। কিন্তু ওডিশা ও ছত্তিশগড়ে দৈনিক সংক্রমণ অনেক বেশি। সংক্রামিতের সংখ্যা তুলনায় বেড়েছে কেরল, পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং গুজরাটে। দৈনিক মৃত্যুতেও এখন অন্যান্য দেশের থেকে এগিয়ে ভারত। মোট মৃত্যুর নিরিখে ভারত বিশ্বের তৃতীয় স্থানে থাকলেও, প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা আমেরিকা ও ব্রাজিলের তুলনায় মোট মৃত্যু অনেক কম। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ১,০৫৪ জনের। এনিয়ে দেশে মৃত্যু হল মোট ৮০,৭৭৬ জনের। শুধু মহারাষ্ট্রেই মৃতের সংখ্যা ২৮,৮৯৪। তামিলনাড়ুতে ৮,৪৩৪, কর্ণাটকে ৭ হাজারের বেশি, দিল্লিতে ৪,৭৭০, অন্ধ্রপ্রদেশে ৪,৯৭২, উত্তরপ্রদেশে ৪,৪৯১, গুজরাটে ৩,২২৭, পঞ্জাবে ২,৪২৪, মধ্যপ্রদেশে ১,৭৯১ ও রাজস্থানে ১,২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বস্তি দিচ্ছে করোনা শুধু সুস্থতার হার। এখনও পর্যন্ত দেশে মোট ৩৮,৫৯,৩৯৯ জন করোনামুক্ত হয়েছেন। মোট সংক্রামিতের ৭৮.২৮ শতাংশই সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭৯,২৯২ জন। সংক্রমণের হার মঙ্গলবার হয়েছে ৭.৮১ শতাংশ। সংক্রমণেও শীর্ষে মহারাষ্ট্র। এই রাজ্যে মোট সংক্রামিত ১০,৭৭,০০০। অন্ধ্রপ্রদেশে ৫,৭৫,০০০, তামিলনাড়ুতে ৫,০৮,০০০, কর্ণাটকে ৪,৬৭,০০০, উত্তরপ্রদেশে ৩১,৭০০, দিল্লিতে ২,২১,০০০, ওডিশায় ১,৫৫,০০০ ও অসমে ১,৪৪,০০০ জন। গুজরাট, কেরলে ও রাজস্থানে সংক্রামিতের সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়েছে।