রাকেশ শা, ঘোকসাডাঙ্গা : এ যেন এ যুগের শাজাহান! প্রিয়তমা পত্নী মমতাজের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিতে শাজাহান তৈরি করেছিলেন তাজমহল। যা পরবর্তীকালে হয়ে উঠেছে বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম। ঠিক তেমনই, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিতে শ্মশান, কালীমন্দির ও উদ্যান তৈরি করলেন কোচবিহারের  মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শীলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সিআইএসএফ জওয়ান নারায়ণচন্দ্র পাটোয়ারি। নিজের টাকায় গয়াবাড়ির পৈতারঘাটে শ্মশান তৈরি করেছেন তিনি।

নারায়ণবাবুর স্ত্রী লতিকা পাটোয়ারি ২০১৭ সালের অগাস্টে মারা যান।শোকাহত নারায়ণবাবু তাঁর স্ত্রীর স্মৃতি ধরে রাখতে এলাকার সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তৈরি করছেন শ্মশানঘাট। যেখানে কংক্রিটের শ্মশানঘাটের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে একটি কালীমন্দির, একটি উদ্যান এবং তাঁর স্ত্রীর আবক্ষ মূর্তি। গয়াবাড়ি গ্রাম সহ টাপুরডাঙ্গা, শীলডাঙ্গা, পাটকামারি গ্রামের মানুষের দেহ সৎকার করার জায়গা এই পৈতারঘাট। কিন্তু এখানে কোনো শ্মশানঘাট নেই। অনেক সময় জঙ্গল পরিষ্কার করে কিংবা জলকাদা ডিঙিয়ে খোলা মাঠে মৃতদেহ সৎকার করা হয়। তাই এই জায়গায় স্ত্রীর স্মৃতিস্বরূপ শ্মশানঘাট নির্মাণ করছেন নারায়ণবাবু। শ্মশানঘাট, মন্দির, উদ্যাণ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ লগ্নে। ১৩ ডিসেম্বর এই ঘাটটি উদ্বোধন হবে।

নারায়ণচন্দ্র পাটোয়ারি বলেন, আমার দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, আমার কোনো ছেলে নেই।  স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আমার স্ত্রী যেন মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকে তাই আমার সারাজীবনের উপার্জন দিয়ে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই শ্মশানঘাট, কালীমন্দির, উদ্যান নির্মাণ করছি। তিনি জানান, প্রায় ১৫ শতক জমি দান করেছেন এলাকার হুকুমচাঁদ বসুনিয়া, জিতেন্দ্রনাথ বসুনিয়া, ধজেন বসুনিয়া এবং রামচন্দ্র দেবসিংহ। এ বিষয়ে এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিলকুমার রায় বলেন, এলাকার মানুষের জন্য শ্মশানঘাট নির্মাণ খুব ভালো উদ্যোগ এবং এরকম বেনজির উদ্যোগের সাক্ষী হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। স্থানীয় পুলিন বর্মন, মাধব বর্মন জানান, নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এর ফলে উপকৃত হবেন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।