গুয়াহাটি, ৩০ মেঃ এনআরসি নিয়ে বারবার বিতর্ক ছড়িয়েছে অসমে। ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও বহু মানুষকে ‘বিদেশি’ অভিহিত করে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এবার কার্গিন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন লেফটেন্যান্টকে ‘বিদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হল। মহম্মদ সানাউল্লাহ নামে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত ওই প্রাক্তন লেফটেন্যান্টকে গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তাঁর পরিবার।

১৯৮৭ সালে ২০ বছর বয়সে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন মহম্মদ সানাউল্লাহ। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। বীরত্বের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পান পুরস্কার। ৩০ বছর সেনায় থাকার পর ২০১৭ সালে লেফটেন্যান্ট হিসাবে অবসর নেন সানাউল্লাহ। এরপর তিনি অসম পুলিশের সীমান্ত শাখার এএসআই হিসাবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর সব নথি যাচাই করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, অসম পুলিশের সীমান্ত শাখাই ‘বিদেশি’ চিহ্নিতকরণের কাজ করে থাকে।

যদিও ফরেনার্স ট্রাইবুনালের বিচারক জানিয়েছেন, শুনানির সময় সানাউল্লাহ সেনাবাহিনীতে যোগদানের সময় বলেছিলেন ১৯৭৮ সাল। তাই ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও সানাউল্লাহর পরিবার ও পরিচিতদের দাবি, অন্যমনস্ক হয়ে হয়ত সানাউল্লাহ ভুল তথ্য দিয়ে ফেলেছেন। জোর করে একজন প্রাক্তন সেনা ও পুলিশের এএসআইকে ‘বিদেশি’ বলে চিহ্নিত করেছে ট্রাইবুনাল। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সানাউল্লাহর পরিজনেরা৷ ভারতীয় প্রমাণ হওয়ার পরেও বহু মানুষের নামের আগেই জুড়েছে ‘বিদেশি’ তকমা৷ তারই মাঝে বাহান্ন বছর বয়সি সানাউল্লাহ ‘বিদেশি’ ঘোষিত হওয়ায় অসন্তোষের আগুনে যেন ঘি পড়ল৷ এই ঘটনার পর সানাউল্লাহের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলের নামও এনআরসি থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।