বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় ফান্ড নেই, অসহায় পরিস্থিতিতে প্রাক্তন কাউন্সিলাররা

80

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি পুরনিগমের ক্ষমতাহীন প্রাক্তন কাউন্সিলাররা পড়েছেন মহাবিপদে। বোর্ডের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর, গত এক বছর ধরে তাঁরা কাউন্সিলারও নেই, আবার কোঅর্ডিনেটরও না। এদিকে, ছেলেমেয়ের বিয়ের জন্য আর্থিক সাহায্য কিংবা পরিবারের কারও পারলৌকিক ক্রিয়ার জন্য সাহায্য চেয়ে তাঁদের দরজায় ভিড় জমাচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা। কিন্তু সাহায্য চাইলেই তো আর পাওয়া যায় না। প্রাক্তন কাউন্সিলাররা এত টাকা পাবেন কোথা থেকে? আবার আর্থিক সাহায্য করতে না পারলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হচ্ছে।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের বাম পরিচালিত বিগত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে গতবছর মে মাসে। এরপর কোভিড পরিস্থিতির কারণে ভোট না হলেও বিগত বোর্ডের মেয়র ও মেয়র পারিষদদের নিয়ে প্রশাসকমণ্ডলী গঠন করা হয়েছিল এবং প্রাক্তন কাউন্সিলারদের কোঅর্ডিনেটর করা হয়েছিল। কিন্তু এবার বিধানসভা ভোটের আগেই সেই পদ যায় কোঅর্ডিনেটরদের। অর্থাৎ এখন তাঁরা আর কোনও পদেই নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ এসব বোঝেন না। তাঁরা জানেন, যাঁদের এতদিন কাউন্সিলার হিসেবে দেখেছেন তাঁদের কাছে গেলেই সাহায্য পাওয়া  যাবে। তাই এখনও প্রায় সব বিদায়ি কাউন্সিলারের বাড়ির সামনে সাহায্যের জন্য ভিড় জমছে প্রতিদিন।

- Advertisement -

পুরো বিষয়টি নিয়ে খুব একটা আশার আলো দেখাতে পারেননি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন সরকারও। তিনি বলেন, কীভাবে কী করা যায় তা নিয়ে পুর প্রশাসকমণ্ডলী চিন্তাভাবনা করছে।

প্রসঙ্গত, শুধু বিয়ে কিংবা শ্রাদ্ধের জন্য নয়, ওষুধ ও চিকিৎসা বাবদ খরচের জন্যও অনেকেই নিজ নিজ ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের দ্বারস্থ হন। অধিকাংশ সময়ে কাউন্সিলারও তাঁর সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ান সাহায্যপ্রার্থীর। প্রয়োজনে ভালো কোনও জায়গায় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে দেন। কিন্তু  এখন  যেহেতু বোর্ড নেই, তাই কাউন্সিলারদেরও আর আগের মতো ক্ষমতা নেই। পুরনিগমের কোনও ফান্ড থেকে টাকা দিয়ে সাহায্যও তাঁরা করতে পারছেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রতিদিন আসছেন তাঁদের কাছে সাহায্যের জন্য। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে কড়া বিধিনিষেধের জেরে অনেকেই কাজ হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাঁরা সাহায্যের আশায় শহরের প্রাক্তন কাউন্সিলারদের বাড়ি যাচ্ছেন।

৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তণমূলের দুলাল দত্তর বক্তব্য, এখন আমরা কাউন্সিলার না থাকলেও প্রতিদিন ওয়ার্ডের প্রচুর মানুষ নানা প্রয়োজনে আমাদের কাছে আসেন। আমরা অফিস খোলামাত্র প্রচুর মানুষ সাহায্যের জন্য চলে আসেন। কিন্তু আমরা কোথা থেকে টাকা পাব? কতদিন যে এভাবে চালাতে পারব জানি না।

প্রায় একই ধরনের বক্তব্য ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার তণমূলের অলোক ভক্তের। তিনি বলেন, মানুষ আমাদের কাছে আসেন সাহায্যের আশায়। যতটুকু পারছি করছি। আর্থিক সাহায্যও করছি যতটা আমার পক্ষে সম্ভব। কতদিন পারব জানি না। একই সুরে অসহায়তার কথা জানিয়েছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার কংগ্রেসের পিন্টু ঘোষ। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সিপিএমের মৌসুমি হাজরার বক্তব্য, আমরা যে এখন কাউন্সিলার কিংবা কোঅর্ডিনেটর পদে আর নেই, সেটা অধিকাংশ মানুষই জানেন না। আমাদের কাছে তাঁরা আশা করে আসেন। কোভিড পরিস্থিতিতে আমাদের সত্যিই ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। আমরা তো পুরনিগম থেকে কোনও টাকা পাই না, তাই কীভাবে মানুষকে আর্থিক সাহায্য করব?