আর্থিক সংকটে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিদায়ি কাউন্সিলাররা

259

শিলিগুড়ি : দীর্ঘ ছয় মাস ধরে মিলছে না কোনওরকম ভাতা। পুরভোট কবে হবে তাও অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক সমস্যায় দিন কাটছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের কোঅর্ডিনেটরদের। অথচ মে মাসের ১৭ তারিখ পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত কাউন্সিলাররা প্রতি মাসে ভাতা হিসেবে পেতেন ১৭ হাজার ২০০ টাকা করে। সঙ্গে কাউন্সিলার হিসেবে বছরে ৬ লক্ষ টাকার ফান্ড খরচ করার অধিকার থাকত। তা দিয়ে ওয়ার্ডবাসীর কিছু জরুরি প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হত। কিন্তু এখন সেই ফান্ডও নেই, ভাতাও নেই। যাঁরা পারছেন তাঁরা নিজেদের পকেট থেকে ওয়ার্ডের গরিব মানুষকে কিছু সাহায্য করছেন। কিন্তু যাঁরা শুধু কাউন্সিলার ছিলেন তাঁদের অবস্থা শোচনীয়। রাজনৈতিক দলের নেতা বলে তাঁরা মুখ ফুটে আর্থিক সমস্যার কথা বলতে পারছেন না। আবার ভাতা না পেয়ে সংসার চালাতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। কয়েকজন সংসার চালাতে ধার করেছেন বলেও সূত্রের খবর।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের অনেক কাউন্সিলার কিংবা বর্তমান কোঅর্ডিনেটর রয়েছেন যাঁরা জনপ্রতিনিধি থাকার পাশাপাশি অন্য কাজও করেন। কেউ শিক্ষক, কেউ ঠিকাদার, কয়েকজনের আবার ব্যবসা রয়েছে। কিন্তু পুরনিগমের এমন বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন যাঁরা শুধুমাত্র রাজনীতি করেন। এর মধ্যে ডান-বাম সব দলেরই জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। এতদিন প্রতি মাসে কাউন্সিলারের ১৭ হাজার ২০০ টাকা ভাতার পাশাপাশি প্রতিটি বৈঠকে উপস্থিত থাকার ভাতা, অফিস খরচ, বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার জন্যও ভাতা মিলত। কিন্তু এখন কোভিড পরিস্থিতির কারণে ১৭ মে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর ভোট যেমন হয়নি তেমনই মিটিংও বন্ধ। তাই মিটিং ভাতার কোনও বিষয় নেই। কিন্তু ১৭ মের পর থেকে কলকাতা পুরনিগমের মতো শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়রকে প্রশাসক করে মেয়র পারিষদদের যেমন প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে তেমনই কাউন্সিলারদের কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিরা কাউন্সিলার হিসাবে যে কাজ করতেন, কোঅর্ডিনেটর হওয়ার পরেও তাঁদের একই কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু ১৭ মে পর্যন্ত পুরনিগমের কাউন্সিলারদের ভাতা মিটিয়ে দেওয়া হলেও প্রশাসকমণ্ডলী বসার পর থেকে আর তাঁদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে যাঁদের বিকল্প সংস্থান আছে তাঁদের খুব একটা সমস্যা না হলেও অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। সঙ্গে রয়েছে প্রায় প্রতিদিনই ওয়ার্ডের নানা লোকের চাহিদা। কেউ আসেন চিকিত্সার খরচের জন্য, কেউ আসেন ছেলেমেয়ের বিয়ের জন্য সাহায্য চাইতে। আগে কাউন্সিলাররা তাঁদের ফান্ড থেকে সেই টাকা দেওয়ার জন্য চিঠি লিখে দিলেও এখন সেই ফান্ড নেই। যার ফলে কেউ কেউ নিজেরাই পকেট থেকে কিছু অর্থসাহায্য করছেন। পুরনিগমের বিদায়ি বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বলেন, আমাদের কোঅর্ডিনেটররা খুব অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন। বহুবার বলেছি ভাতার বিষয় নিয়ে কিন্তু প্রতিবারই বলা হচ্ছে কোনও ফান্ড নেই। পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অশোক ভট্টাচার্যর বক্তব্য, আসলে আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাই ওই ভাতা দিতে পারিনি। তবে অন্তত এক মাসের ভাতা যাতে দেওয়া যায়, তার চেষ্টা করছি।